ভারতে পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। এখন পর্যন্ত তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
জানা গেছে , শিক্ষার্থীকে ধর্ষণে জড়িত পাঁচ জনকে ইতোমধ্যেই চিহ্নিত করেছে পুলিশ। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন খুঁজে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। বাকি দুইজন এখনও পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তাদেরও দ্রুত ধরে ফেলার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উড়িষ্যা অঙ্গরাজ্যের জলেশ্বরের বাসিন্দা ওই শিক্ষার্থী। পড়াশোনা করতে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক বন্ধুর সঙ্গে ফুচকা খেতে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মাঝরাস্তায় কয়েকজন তাদের উত্ত্যক্ত ও তাড়া করে তাদের। এক পর্যায়ে বান্ধবীকে ফাঁকা রাস্তায় ফেলে রেখেই চলে যায় ওই বন্ধু। এরপর ওই নারীর ওপর দলবেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়ে অভিযুক্তরা। রেখে দিয়েছে তার অর্থকড়ি ও মুঠোফোন।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৭টা ৫৮ মিনিটে দু’জনে ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়েছিল। ৮টা ৪২ মিনিটে ওই বন্ধু একা ফিরে আসেন। প্রধান ফটকে মিনিট পাঁচেক ঘোরাঘুরি করার পর আবার ৮টা ৪৮ মিনিটে বেরিয়ে যান। ৯টা ২৯ মিনিটে দু’জনে একত্রে ফিরে আসেন।
পুরো ঘটনার নেপথ্যে ওই বন্ধুর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীর বাবা। অভিযোগপত্রে তার দাবি, অভিযুক্তরা ওই সহপাঠীর পূর্ব পরিচিত।
তিনি আরও বলেন, তারা মেয়েকে ধর্ষণের পর মোবাইল ও পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় অপরাধীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষকরা যে এলাকাটি বেছে নিয়েছিল সেখানে গভীর জঙ্গল রয়েছে। সেখানে কোনও পাকা রাস্তা নেই, সিসিটিভি নেই। একটা নির্দিষ্ট অংশের পর গাড়ি নিয়ে যাওয়ার পথ নেই, যেতে হয় বাইক বা সাইকেল নিয়ে।
পুলিশও জঙ্গলের ভেতরে তল্লাশি চালাচ্ছে সাইকেল-বাইক নিয়ে। সাদা পোশাকে পুলিশ অভিযুক্তদের খুঁজছে। ড্রোন উড়িয়েও নজরদারি চালানো হচ্ছে। ভুক্তভোগীর জবানবন্দি নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।