পটারি পুকুর রক্ষায় ‘রূপায়ণ গ্রিন প্যারাডাইজ’ ভবন নির্মাণে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ

পটারি পুকুর রক্ষায় ‘রূপায়ণ গ্রিন প্যারাডাইজ’ ভবন নির্মাণে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ

সরাই জাফরাবাদ মৌজায় অবস্থিত পুকুর (স্থানীয়ভাবে পটারি পুকুর নামে পরিচিত) ভরাট থেকে রক্ষায় প্রস্তাবিত “রূপায়ণ গ্রিন প্যারাডাইজ” ভবনের অনুকূলে পরিবেশ অধিদফতরের দেওয়া অবস্থানগত ছাড়পত্র ও এর নবায়নের কার্যকারিতা ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

এছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত ওই পুকুর ভরাট থেকে রক্ষায় বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। একইসঙ্গে ওই পুকুর চিহ্নিত স্থানে প্রস্তাবিত “রূপায়ণ গ্রিন প্যারাডাইজ” ভবনের অনুকূলে পরিবেশ অধিদফতরের অবস্থানগত ছাড়পত্র দেওয়া ও তা নবায়ন এবং পুকুর হিসেবে চিহ্নিত স্থানে “রূপায়ণ গ্রিন প্যারাডাইজ” নামক ১৪ তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ সংবিধান ও দেশে প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন বিধায় তা কেন আইনবহির্ভূত, আইনগত কর্তৃত্ববিহীন এবং জনস্বার্থের পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

পাশাপাশি জারি করা এ রুলে পুকুরটি ভরাট থেকে রক্ষার, ভরাট করা অংশ পুনরুদ্ধার এবং “পুকুর” হিসেবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও বিবাদীদের কাছে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

মামলার বিবাদী পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ভূমি মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ও ঢাকা মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট), ঢাকার জেলা প্রশাসক, ঢাকা মেট্টোপলিটন এরিয়ার পুলিশ কমিশনার ও মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এবং রূপায়ণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এসব রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক জনস্বার্থে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রবিবার (৯ নভেম্বর) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস. হাসানুল বান্না। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট তৌহিদুল আলম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।

জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত রায়েরবাজার এলাকার সরাই জাফরাবাদ মৌজায় আর এস জরিপের ১৩৫১ নাম্বার দাগে ৬৫ দশমিক ২৮ শতাংশ জায়গা জুড়ে বিসিকের মালিকানাধীন একটি জোড়া পুকুর রয়েছে যা স্থানীয়ভাবে ‘পটারি পুকুর’ নামে পরিচিত। জনগুরুত্বপূর্ণ এ পুকুরটি ভরাট করে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেড নামক একটি হাউজিং কোম্পানি সেখানে ১৪ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। স্যাটেলাইট ইমেজ থেকে পরিলক্ষিত হয় ২০১৩ সালে পুকুরটি দৃশ্যমান ছিল।

পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালে পুকুরটি সম্পূর্ণ ভরাট করা হয়। ২০২২ সালে পুকুরে একাংশ পুনরুদ্ধার করা হয় যার পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ কিন্তু অবশিষ্ট ৩৫ দশমিক ২৮ শতাংশ ভরাট অবস্থায় থেকে যায়। ২০২৫ সালে পুনরুদ্ধার করা ৩০ শতাংশে ভরাটের উদ্যোগ নিলে বেলা সম্পূর্ণ পুকুর পুনরায় ভরাট থেকে রক্ষায় এবং অবশিষ্ট ৩৫ দশমিক ২৮ শতাংশ পুনরুদ্ধারে বেলা রিট মামলাটি দায়ের করে।

Comments

0 total

Be the first to comment.

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে BanglaTribune | অন্যান্য

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে

জুলাই আন্দোলনের মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সাড়ে পাঁ...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin