সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এরমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে ৫ বছরের জেল দেওয়া হয়।
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে চলে গেলে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর সরকারের মন্ত্রী, এমপিসহ নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে বিভিন্ন সময়ে তাদের অনেকেই ভারতে আশ্রয় নেন। শেখ হাসিনা ছাড়াও তাদের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও রয়েছেন। ২০২৪ এর সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে কলকাতার ইকোপার্ক নামের একটি পার্কে দেখা যাওয়ার ভিডিও প্রকাশ করে বিভিন্ন গণমাধ্যম। এছাড়া শেখ হাসিনা অতিথি হিসেবে ভারতে অবস্থান করছেন বলে সরকারিভাবেই ভারত স্বীকার করে নেয়।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান। পরে তিনি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি হন। এর পর তিনি সত্য প্রকাশের প্রতিশ্রুতিতে মামলার রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষ্য দেন।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন।
এ দিন পৃথক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে প্রয়োজনে আবারও ভারতকে চিঠি দেওয়া হবে। পলাতক আসাদুজ্জামান খান কামালকেও ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’