গাজা সিটিতে নতুন করে স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, পুড়ছে গাজা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, গাজার প্রধান নগরকেন্দ্র গাজা সিটিতে হামাসের ঘাঁটি ধ্বংস করতে মূল অভিযান শুরু হয়েছে। বাসিন্দাদের শহর ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ এক্সে লিখেছেন, আইডিএফ সন্ত্রাসী অবকাঠামোতে কঠোর আঘাত করছে। জিম্মিদের মুক্তি ও হামাসকে পরাজিত করার জন্য সেনারা বীরত্বের সঙ্গে লড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত দুই দিনে গোলাবর্ষণ আরও বেড়েছে। ট্যাংক, যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনী একযোগে গাজা উপকূলে আঘাত হানছে। আদালতে দুর্নীতির মামলার শুনানির শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, আমরা গাজায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযান শুরু করেছি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার ইসরায়েল সফরে এসে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় না গিয়ে হামাসকে শক্ত হাতে দমনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানান। তিনি বলেছেন, হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ করে সব জিম্মিকে ছেড়ে দিতে হবে, এটাই যুদ্ধ শেষ করার একমাত্র উপায়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশির ভাগই গাজা সিটির বাসিন্দা। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ শহর ছাড়লেও এখনও ৬ লাখ ৫০ হাজারের মতো মানুষ সেখানে রয়ে গেছেন। জাতিসংঘ বলছে, দক্ষিণে যেসব জায়গায় জনগণকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোতে জায়গা কম ও খাদ্যসংকটে ভুগছে।
ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বলছে, এই অভিযানের লক্ষ্য হামাসকে রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠন হিসেবে ভেঙে দেওয়া। তবে দেশটির সেনাপ্রধান এয়াল জামির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, অভিযানে অবশিষ্ট জিম্মিদের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে এবং সেনাদের জন্যও এটি ‘মৃত্যুফাঁদ’ হয়ে উঠতে পারে।
নেতানিয়াহুর বাড়ির সামনে জিম্মি পরিবারগুলো সমবেত হয়ে অভিযোগ করেছে, প্রধানমন্ত্রী জিম্মিদের মুক্তির পথ রুদ্ধ করছেন। আনাত আংগ্রেস্ট নামে এক জিম্মির স্বজন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সেনাদের সেই এলাকায় পাঠাচ্ছেন, যেখানে আমাদের প্রিয়জনরা রয়েছেন। এতে তারা জীবিত ফিরতে নাও পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামাসের আকস্মিক হামলায় অন্তত ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হন এবং প্রায় ২৫১ জন জিম্মি হন। বর্তমানে ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, ২০ জন জিম্মি জীবিত রয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত গাজায় ৬৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, অঞ্চলটির কিছু অংশে ইতোমধ্যে দুর্ভিক্ষ চলছে।