বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মস্তিষ্কের আকার স্বাভাবিকভাবে ছোট হতে থাকে। তবে এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এই ক্ষয় পুরুষদের ক্ষেত্রে নারীদের তুলনায় দ্রুত ঘটে। নরওয়ের অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ১৭ থেকে ৯৫ বছর বয়সী ৪ হাজার ৭২৬ জন সুস্থ মানুষের মোট ১২ হাজারেরও বেশি মস্তিষ্কের স্ক্যান বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, পুরুষদের মস্তিষ্কের টিস্যু হারানোর গতি নারীদের চেয়ে বেশি।
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের মস্তিষ্কের কর্টেক্স বা বহিরাবরণের একাধিক অঞ্চলে বয়সজনিত ক্ষয় বেশি হয়। নারীদের ক্ষেত্রে ক্ষয় সীমিত ও তুলনামূলকভাবে ধীর। গবেষক দলের সহলেখক ও স্নায়ুবিজ্ঞানী অ্যান রাভনডাল বলেন, যদি নারীদের মস্তিষ্ক দ্রুত ক্ষয় হতো, তাহলে হয়তো তাদের মধ্যে আলঝেইমার রোগের উচ্চ প্রবণতার ব্যাখ্যা পাওয়া যেত।
গবেষণায় লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য স্পষ্টভাবে ধরা পড়লেও, বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে বিষয়টি আরও বিশদভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। কারণ এখন পর্যন্ত মস্তিষ্কের বয়সজনিত পরিবর্তন নিয়ে অধিকাংশ গবেষণায় পুরুষ ও নারীর পার্থক্য যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
২০১৯ সালের আগ পর্যন্ত স্নায়ুবিজ্ঞান ও মনোরোগবিদ্যার গবেষণার মাত্র ৫ শতাংশে লিঙ্গভিত্তিক প্রভাব বিবেচনা করা হয়েছিল। ফলে মস্তিষ্ক ক্ষয়ের হার নিয়ে পূর্ববর্তী গবেষণাগুলোর ফলও ছিল অনেকটা পরস্পরবিরোধী।
সাধারণত আলঝেইমার রোগে আক্রান্তদের মস্তিষ্ক দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। কিন্তু এই নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের মস্তিষ্কের ক্ষয়ের হার তুলনামূলক ধীর হলেও, জীবনকাল অনুযায়ী হিসাব করলে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে তাদের হিপোক্যাম্পাস অংশে (স্মৃতি ও শেখার সঙ্গে জড়িত অংশ) ক্ষয় দ্রুত ঘটে।
গবেষকরা বলছেন, এটি নারীদের বেশি আলঝেইমার ঝুঁকির প্রমাণ নয়; বরং দীর্ঘায়ুর কারণে বয়সজনিত পরিবর্তনের একটি প্রাকৃতিক প্রতিফলন হতে পারে।
গবেষকরা বলছেন, মস্তিষ্কের আয়তন, কর্টিকাল পুরুত্ব, পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল এবং সাবকর্টিকাল আয়তনের মধ্যে লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য চিহ্নিত করেছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, মস্তিষ্কের আয়তন হ্রাস মানেই সবসময় জ্ঞান-ক্ষমতা হ্রাস নয়, কিছু ক্ষেত্রে এটি অভিযোজনমূলক প্রক্রিয়ার ফলও হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পুরুষ ও নারীর মস্তিষ্ক বার্ধক্যপ্রাপ্ত হওয়ার ধরণ বুঝতে হলে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। কারণ জিনগত ও পরিবেশগত প্রভাব, পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক পক্ষপাত, বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র: এনডিটিভি