পুতিনের ফোনে ট্রাম্প কি আবারও রুশ ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন?

পুতিনের ফোনে ট্রাম্প কি আবারও রুশ ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন?

কূটনীতিতে সময়ের হিসাবই সবকিছু। আর সেই সময়টাকেই নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়েছে ক্রেমলিন। ফোনে কথা বলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত আট মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে এটি ছিল অষ্টম ফোনালাপ, যা এবারও দুই দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্রাম্প যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ওয়াশিংটনে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং কিয়েভকে দূরপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার ঝুঁকি বিবেচনা করছেন, ঠিক তখনই প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রায় আড়াই ঘণ্টার ফোনালাপ সেই পরিকল্পনাকে ‘শেষ মুহূর্তে থামানোর’ এক কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

রুশ কর্মকর্তারা ফোনালাপটিকে ইতিবাচক, ফলপ্রসূ এবং আস্থার পরিবেশে অনুষ্ঠিত বলে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, পুতিন ট্রাম্পকে বলেছেন, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনকে বড় ধরনের সামরিক সুবিধা দেবে না, বরং মার্কিন-রুশ সম্পর্কের অপ্রয়োজনীয় ক্ষতি করবে। যে সম্পর্ককে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত মূল্য দেন।

ক্রেমলিনের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, পুতিন আলাপচারিতায় ট্রাম্পকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির দূত হিসেবেও প্রশংসা করেছেন। আলোচনায় অর্থনৈতিক চুক্তির ইঙ্গিতও দেওয়া হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুই নেতা আগামী মাসে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে দ্বিতীয় সরাসরি শীর্ষ বৈঠকে বসার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সেখানে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে আবারও আলোচনা হতে পারে।

তবে সেই বৈঠক অনেকের কাছে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে আলাস্কার ব্যর্থ সম্মেলনের কথা। ওই সম্মেলনে ট্রাম্প পুতিনকে অভ্যর্থনা জানালেও ইউক্রেন শান্তি উদ্যোগে কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে পারেননি।

গাজায় যুদ্ধবিরতি ও ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির পর নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যে সফল শান্তি স্থাপনকারী হিসেবে তুলে ধরছেন ট্রাম্প। তার দাবি, ওই অভিজ্ঞতাই এবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে সহায়ক হবে। কিন্তু কীভাবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

মস্কো এখনও কোনও সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়নি। যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহতের সংখ্যা বাড়লেও এবং ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় জ্বালানিসংকট গভীর হলেও রাশিয়া যুদ্ধ শেষ করার পূর্বশর্তে অনড় রয়েছে। তাদের দাবি, ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চলগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যৎ ইউক্রেনের সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতি মস্কোর প্রভাবাধীন থাকা নিশ্চিত করতে হবে।

সর্বশেষ ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপে এসব দাবির কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নয় মাসে ক্রেমলিন বুঝে গেছে যে, সরাসরি আপসের প্রস্তাব না দিয়েও ব্যক্তিগত সংযোগ ও দ্রুত সাফল্যের সম্ভাবনা দেখানোই ট্রাম্পকে আলোচনায় টানার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ওয়াশিংটনে অবস্থানরত ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলছেন, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য সরবরাহই পুতিনকে আলোচনায় ফিরিয়ে এনেছে। তবে মস্কোতে ধারণা ভিন্ন। তারা মনে করে, শান্তি আলোচনার সম্ভাবনার আভাসই যথেষ্ট। কারণ একটি সাফল্যের জন্য ক্ষুধার্ত ট্রাম্প হয়তো এর বিনিময়ে সামরিক চাপ কমিয়ে দেবেন।

সূত্র: সিএনএন

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin