পূর্ব লন্ডনের প্লাস্টো এলাকার কাম্বারল্যান্ড কমিউনিটি স্কুল গত পাঁচ বছরে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে উন্নত স্কুলের সরকারি স্বীকৃতি অর্জন করেছে। সেই সঙ্গে স্কুলটি শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি জাতীয় নেতৃত্বের স্থানে নিজেদের অবস্থানকে দৃঢ় করেছে। এই সাফল্যের মূলে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রধান শিক্ষক ইখলাস রহমান।
এই খবরটি এসেছে ঠিক তখনই, যখন শিক্ষায় ইখলাস রহমানের জনহিতকর উদ্যোগ নতুন করে শিরোনামে এসেছে। স্কুলটি সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নতুন ইউনিফর্ম এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য ১ লাখ পাউন্ডের বেশি বিনিয়োগ করেছে।
যুক্তরাজ্যের অন্যতম দরিদ্র এলাকায় অবস্থিত এই স্কুলটি। এখানকার অর্ধেকেরও বেশি (৫৫%) শিক্ষার্থী বিনামূল্যে খাবার পাওয়ার যোগ্য। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সংকট মোকাবিলা এবং পরিবারের ওপর চাপ কমানোর সরাসরি পদক্ষেপ হিসেবে, স্কুলটি এর ২৭০ জন নতুন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ৪০০ পাউন্ড মূল্যের একটি করে ভাউচার প্রদান করেছে। এই ভাউচার একটি নতুন ব্লেজার, টাই এবং একটি ল্যাপটপের খরচ বহন করবে। এর পরিমাণ ১ লাখ ৮ হাজার পাউন্ড।
প্রধান শিক্ষক রহমান বলেন, ‘আমার অফিসে এসে অনেক বাবা-মা আমাকে বলেছেন যে তারা কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারছেন না। আমরা চাই না যে একটি পরিবারের আর্থিক অবস্থা একটি ভালো শিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াক। তাই, আমরা সবচেয়ে ব্যয়বহুল জিনিসগুলোর খরচ বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এই সিদ্ধান্তটি সম্প্রতি ‘এডুকেশন অ্যাক্ট’র সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা স্কুলগুলোকে অভিভাবকদের ইউনিফর্মের খরচ কমাতে সাহায্য করার জন্য উৎসাহিত করে। যদিও কাম্বারল্যান্ড আরও বেশি সক্রিয় ও জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে। স্কুলটি ইউনিফর্মের তালিকা থেকে সমস্ত ব্র্যান্ডেড জিনিস সরিয়ে দিয়েছে যাতে এটি আরও সাশ্রয়ী হয়।
ইখলাস রহমান আরও বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণভাবে ইউনিফর্ম তুলে দিতে চাই না। কারণ ইউনিফর্ম পরার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষার ওপর আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারে এবং ফ্যাশন-সম্পর্কিত সামাজিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে পারে।’
গত গ্রীষ্মে প্রায় ৭০ শতাংশ জিসিইসি শিক্ষার্থী ইংরেজি এবং গণিতে ভালো ফলাফল করেছে। ২৫ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী সব বিষয়ে সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করেছে।