গাজার রাফাহ সীমান্ত আগামী সোমবার (২০ অক্টোবর) থেকে খুলে দেওয়া হবে। মিসরে অবস্থিত ফিলিস্তিনি দূতাবাস থেকে শনিবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
এক সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রস্তাব অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তিতে সম্মত হয় হামাস ও ইসরায়েল। তার প্রায় এক সপ্তাহ পর গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
২০২৪ সালের মে মাস থেকে কার্যত বন্ধ ছিল রাফাহ সীমান্ত। এখান দিয়ে শিগগিরই মিসরে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনিদের গাজায় ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে বলে দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে। তবে ত্রাণ পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হবে কিনা, তা পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রায় দুবছর ধরে ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধে দেখা দিয়েছিল তীব্র খাদ্য সংকট। বিশেষত, ত্রাণের খাবার হামাস ছিনিয়ে নিচ্ছে- এই অভিযোগে মানবিক সহায়তায় ইসরায়েল বাড়তি কড়াকড়ি আরোপ করলে পরিস্থিতি আরও সঙ্গিন হয়ে পড়ে। এসময় খাদ্য, ওষুধ, বাসস্থানসহ প্রতিটি মানবিক চাহিদার পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
চলতি বছরের মার্চে ইসরায়েল টানা ১১ সপ্তাহের জন্য গাজায় সব ধরনের সাহায্য বন্ধ করে দেয়। ফলে খাবারের মজুত ফুরিয়ে যায় এবং পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। যুদ্ধবিরতির পর এখন দৈনিক ৫৬০ মেট্রিক টন পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী গাজার প্রবেশ করছে। অবশ্য এটিও প্রয়োজনীয় চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি।
২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় অনেকখানি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে রাফাহ সীমান্ত দিয়ে সাহায্য পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। তবে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে এক স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতির সময় সাময়িকভাবে এটি খোলা হয়েছিল।
গত আগস্টে একটি আন্তর্জাতিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছিল, গাজা সিটিতে দুর্ভিক্ষ চলছে। তবে ইসরায়েল এই প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা ও পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে খারিজ করে দেয়।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দাবি, অপুষ্টিজনিত কারণে এখন পর্যন্ত চার শতাধিক মানুষ মারা গেছেন। কিন্তু ইসরায়েল বলছে, সংখ্যাটি অতিরঞ্জিত এবং অনেকের মৃত্যু খাবারের অভাব ছাড়া অন্য কোনও কারণে ঘটেছে।
গত জুলাইয়ের শেষে ইসরায়েল জানিয়েছিল, তারা গাজায় সাহায্য প্রবেশের নিয়ম শিথিল করছে। তবে গাজার দিকের রাফাহ সীমান্ত বন্ধ থাকায় অধিকাংশ চালান পাঠানো হচ্ছিল কেরেম শালোম সীমান্তপথে, যা রাফাহ থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে।
ত্রাণকর্মী ও ট্রাকচালকদের অভিযোগ, কেরেম শালোম ক্রসিংয়ে ক্ষুদ্র প্যাকেজিং বা কাগজপত্রজনিত কারণে চালান ফেরত দেওয়া, সীমিত সময়ে সীমান্ত খোলা রাখার মতো বিভিন্ন জটিলতার সম্মুখীন হতে হয় তাদের। ফলে প্রয়োজনীয় সাহায্যের সামান্যই গাজায় পৌঁছেছে।
গাজায় ত্রাণ প্রবেশে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে ইসরায়েল সরকার।