রাজধানীতে কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের ২৬ খণ্ড লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। পরকীয়ার জেরে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর কদমতলীর দনিয়া শনিরআখড়া এলাকার একটি বাসায় রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে হত্যাকাণ্ডের দুদিন পর তার লাশ বাথরুমে নিয়ে ২৬ টুকরো করে শামিমা ও নিহতের বন্ধু জরেজ মিয়া। এদের মধ্যে জরেজ মিয়াকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শামিমাকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) একটি টিম।
শুক্রবার তাদের আটক করা হয় বলে র্যাব ও ডিবির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মহানগর ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, “রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের সঙ্গে পূর্ব পরিচয়ের মাধ্যমে শামিমার সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে আশরাফুল হকের বন্ধু জরেজ মিয়ার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন শামিমা। এসব বিষয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়।”
তিনি জানান, একপর্যায়ে কদমতলী এলাকার একটি বাসায় শামিমা ও জরেজ মিয়া দুজনে মিলে প্রথমে আশরাফুল হককে হত্যার পর লাশ বাসার ভেতরে রেখে দেন। দুজনের পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যার দুদিন পর ১৩ নভেম্বর আশরাফুল হকের লাশ বাসার বাথরুমে নিয়ে ২৬ টুকরো করে। পরে দুটি ড্রামে ভরে সিএনজিযোগে দুজন শাহবাগ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের কোণে পানিরপাম্প সংলগ্ন রাস্তায় রেখে পালিয়ে যায়।
এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে শনিবার (১৫ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের কোণে পানির পামসংলগ্ন ফুটপাতে দুটি নীল রঙের ড্রামের ভেতর আশরাফুল হকের ২৬ টুকরো লাশ উদ্ধার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। প্রথমে লাশের পরিচয় না পাওয়া গেলেও খণ্ডিত ফিঙ্গারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানতে পারেন উদ্ধার করা খণ্ড-বিখণ্ড লাশের নাম আশরাফুল হক, বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ এলাকায়।
এদিকে শুক্রবার দুপুরে ২৬ টুকরো লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতাল কলেজ মর্গে।
নিহতের বোন আনজিরা বেগম জানান, আশরাফুল গ্রামের বাড়িতে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। স্ত্রী লাকী বেগম ও দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন। গত মঙ্গলবার এলাকার বন্ধু জরেজ মিয়ার সঙ্গে ঢাকায় যান তার ভাই আশরাফুল হক। ব্যবসায়ীর কারণে অথবা অন্যান্য কারণে নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকজনের কাছে টাকা পেতেন আশরাফুল হক এমনটাই জানতো পরিবার।
এ ঘটনায় শুক্রবার শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন আশরাফুলের বোন আনজিরা বেগম। মামলায় আশরাফুলের বন্ধু জরেজ মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়।