রাজশাহীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

রাজশাহীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ ও মশালমিছিলে বাধা দেওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সাধারণ পথচারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়। 

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় তানোর পৌরসভা ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সামনের সড়কে এ ঘটনা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মী সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শরীফ উদ্দিনকে রাজশাহী-১ আসনে দলের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। একই আসনে মনোনয়নবঞ্চিত গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সদস্য সুলতানুল ইসলামের অনুসারীরা বিক্ষোভ করে আসছিলেন। শরীফ উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে সন্ধ্যায় উপজেলা সদরে মশালমিছিল বের করেন সুলতানুল ইসলামের অনুসারীরা। এ সময় শরীফ উদ্দিনের অনুসারীরা তাতে ইটপাটকেল ছোড়েন। তখন উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। এর মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

সুলতানুল ইসলাম বলেন, ‘তারা দল করে, আমরাও দল করি। প্রার্থী পছন্দ না হলে সারা দেশেই বিক্ষোভ হচ্ছে, আমাদের এখানেও হচ্ছে। আমার অনুসারীরাও সন্ধ্যায় প্রার্থী বদলের দাবিতে মশালমিছিল বের করেন। এতে শরীফ উদ্দিনের অনুসারীরা হামলা করেন। তিনি তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমানকে নির্দেশ দিয়েছেন, এলাকায় যেন কোনও বিক্ষোভ না হয়। তাই মিজানুরের লোকজন এ হামলা করেছেন। আমরা এ বিষয়ে অবশ্যই থানায় অভিযোগ করবো।’

তার অভিযোগ, তাদের নেতাকর্মীদের বহনকারী অন্তত ১৮টি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব অটোরিকশায় চড়ে বিভিন্ন স্থান থেকে তারা উপজেলা সদরে গিয়েছিলেন। গাড়িগুলো ভাঙচুরের পর চাবি নিয়ে চলে যাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে সাবেক পৌর মেয়র মিজানুর রহমানকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, ‘বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তাদের কেউ কোনও অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Comments

0 total

Be the first to comment.

রাকসু নির্বাচনে ১৭ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ, নিরাপত্তায় থাকবে দুই হাজার পুলিশ BanglaTribune | রাজশাহী বিভাগ

রাকসু নির্বাচনে ১৭ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ, নিরাপত্তায় থাকবে দুই হাজার পুলিশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোট গ...

Sep 16, 2025

More from this User

View all posts by admin