রাসায়নিক দুর্ঘটনা রোধে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ

রাসায়নিক দুর্ঘটনা রোধে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ

কারখানায় রাসায়নিক দুর্ঘটনা যখন ঘটে তখন এ নিয়ে আলাপ হয়, কিন্তু কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কারণ সংস্থা এবং দফতরগুলোর মধ্যে সমন্বয় নেই। দুর্ঘটনা ঘটলে এক সংস্থা আরেক সংস্থার ওপর দায় দিয়ে এড়িয়ে যায়। তাই দুর্ঘটনা রোধে একটি জাতীয় নীতিমালা করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) ডেইলি স্টার সেন্টারে দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিল্পখাতে অগ্নি ও রাসায়নিক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন ও টেকসই কর্মপরিবেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে তা বাস্তবায়ন নিশ্চিতের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক একটি উপস্থাপনের মধ্যে তৈরি পোশাক কারখানাসহ অন্যান্য কারখানায় দুর্ঘটনার চিত্র এবং তার বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

আলোচনায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন বলেন, ‘রাসায়নিক সুরক্ষা, অগ্নি সুরক্ষা, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার এবং স্টোরেজের জন্য, তথ্য এবং কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে এবং ফাঁকগুলো ও সমস্যাগুলো সংশোধন করতে হবে, তার জন্য জ্ঞান এখানেই রয়েছে। সুতরাং আমি মনে করি যা আসলে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় তা হলো একটি জাতীয় নীতি বা এমন কিছু যা এই খাতে কাজ করা প্রত্যেককে সংযুক্ত করে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জানি বা আপনি জানেন যে কী হওয়া দরকার, সম্মিলিতভাবে কাজ করতে এবং একটি শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে এবং আইএলও’র ভূমিকা হচ্ছে উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করা এবং আমরা আপনাকে একসঙ্গে কাজ করতে সহায়তা করার জন্য সংযোগকারী হতে পারি এবং আমরা যেকোনও উপায়ে সমর্থন করতে পেরে খুশি হবো।’

jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw692b080c88e17" ) );

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক মো. মাহফুজুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, ‘এখন যদি আমরা মনে করি যে, আমরা আর দুর্ঘটনা চাই না, না কেমিক্যাল দুর্ঘটনা না শিল্প দুর্ঘটনা, তাহলে আমাদেরকে ধরে ধরে হাঁটতে হবে। আমাদেরকে টু দ্যা পয়েন্টে কাজ করতে হলে আমাকে অবশ্যই বলতে হবে যে এই এই জায়গাতে এই জাতীয় দোকান হবে। এই এই জায়গাতে এই জাতীয় দোকান হবে না। অর্থাৎ যার তাপ উৎপাদন করে তার সঙ্গে দাহ্য বস্তুর কোনও সম্পর্ক থাকা যাবে না। এটাকে আগে চিন্তা করতে হবে। আমরা মনে করি যে, আমাদের কাছে প্রচুর তালিকা আছে, ফায়ার সার্ভিসের তালিকা আছে, সিটি কর্পোরেশন চাইলে আমরা সমন্বিত ভাবে অন্ততপক্ষে ঢাকা শহরের জন্য মনে করি যে, এই তিনটা দফতরকে একসঙ্গে করে যদি চাই আমরা অনেক কমিয়ে আনতে পারবো।’

বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, ‘কার্যকর নীতিমালা ইফেক্টিভ রুলস রেগুলেশন কীভাবে নিশ্চিত করা যায়? প্রশ্ন হচ্ছে কেমিক্যাল সেফটির জন্য আমাদের কি নীতিমালা আছে কি-না? একটা প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছিল কেমিক্যাল সেফটির জন্য সেটা আলোর মুখ দেখে নাই। সেটা দুঃখজনক। কারণ এত দুর্ঘটনা ঘটছে, কিন্তু সেটা হচ্ছে না।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা টোটাল ৮টি পয়েন্ট নোট করেছি। এর মধ্যে সব ক্ষেত্রেই যেই সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো মূল্যায়ন করাটা খুবই জরুরি। এই মুহূর্তে প্রেজেন্ট যে ফায়ার রিসক এসেসমেন্ট এইটা এখন আমাদের দ্রুত এসেস করতে হবে। আমরা যাতে বুঝতে পারি, অর্থাৎ জোন ভিত্তিক অথবা ফায়ারের রিস্কের যেই মাত্রা সেই মাত্রা হিসেবে দ্রুত এই ফায়ারের রিস্কের এসেসমেন্টটা করা দরকার। কোনও আবাসিক জায়গায় কখনও কোনও গোডাউন, কেমিক্যাল গোডাউন অথবা ইন্ডাস্ট্রি হতে পারে না। এটা হতে গেলেই অবশ্যই আমাদের ওই এলাকার কমিউনিটিতে প্রভাব পড়বে।’

ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আলী আহমেদ খান বলেন, ‘আমাদের অনেক আইন আছে, সংস্থা আছে। কিন্তু দিন শেষে দেখা যায় যে, তাদের মধ্যে কোনও সমন্বয় নাই। আমাদের প্রয়োগকারী সংস্থা আসলেই খুব দুর্বল। যখন একটা রাসায়নিক দুর্ঘটনা ঘটে, তখন তার দায় কে নিবে? সুতরাং আমাদের সংস্থাগুলোর মধ্যে কোনও সমন্বয় নেই, সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভাব আছে। শুধু গার্মেন্টস না, আরও অনেক শিল্পের কারখানা আছে, সুরক্ষা পদক্ষেপের সংস্কৃতি সেখানে নেই। মালিক এবং শ্রমিকের মধ্যে অনেক ভালো সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে। দুর্ভাগ্যবশত কারখানার মালিকরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। তারা সবসময় সস্তা জিনিসের পেছনে ছুটে। সেগুলো সুরক্ষা নিশ্চিতে খুব ভালো কোনও ফলাফল দেয় না। বেশিরভাগ শ্রমিকেরই তেমন কোনও প্রশিক্ষণ নেই। অনেক কারখানায় এলপিজি ব্যবহার করে, সেখানে একটা যথাযথ নকশা প্রয়োজন আছে। নাহলে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।’

বিজিএমইএ’র সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আপনি পলিসি যত কিছুই করেন না কেন এক হাজার পৃষ্ঠা বা ১০০ পৃষ্ঠার, কোন লাভ নাই যদি বাস্তবায়নের জায়গাটায় আপনি না যান।’

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আবুল বাশার মিয়া বলেন, ‘আমাদের ফুড সেফটি সিকিউরিটির ক্ষেত্রে আমাদের বাংলাদেশে বর্তমানে একটা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আছে। আমরা কিন্তু আমাদের দেশে কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিগুলো সেইভাবে ডেভেলপ করতে পারি নাই। আমাদের একটা বেস্ট কেমিক্যাল ম্যানেজমেন্ট দরকার বাংলাদেশের জন্য। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশে এই যে রাসায়নিক দুর্ঘটনা যখন সামনে আসে, তখন হয়তো আমরা আলাপ করি যে আমাদের দেশে তো আসলে এই যে কেমিক্যালের বা এই সংক্রান্ত আমাদের কোনও কর্তৃপক্ষ নাই। আমি মনে করি এই মুহূর্তে আমাদের দেশে একটা কেমিক্যাল আইন হওয়া দরকার এবং তার সঙ্গে ব্যাপক ভিত্তিক বিধিমালা হতে হবে যে কেমিক্যাল ইনসিডেন্ট না শুধুমাত্র কেমিক্যাল ফায়ার না শুধুমাত্র কেমিক্যালের বিপত্তি যেসব আছে, এমনকি খাদ্য শৃঙ্খলের জন্যও। আমি একটা যথাযথ আইনের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি যে, আমাদের এই রাসায়নিক দ্রব্যের নিরাপদ ব্যবহার এবং এই সংক্রান্ত একটা আইন দরকার।’

জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল আহসান জুয়েল বলেন, ‘আমরা মনে করি যে লেবার রিফর্ম কমিশন সারা বাংলাদেশের সব সেক্টরের সঙ্গে আলোচনা করে একটা সুপারিশ দিয়েছেন। আমরা ভবিষ্যতে সেটা নিয়ে কাজ করতে পারি। আমি যেটা মনে করি যে, কার্যকরী নীতি আর আইন করলে হবে না। কিন্তু বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে একটা শক্তিশালী আইন করতে হবে বা নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। নিয়মিত যে ঝুঁকিগুলো আছে সেগুলো মূল্যায়ন করতে হবে। শ্রমিক এবং যারা ব্যবসায়ী তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে এবং ইন্ডাস্ট্রির ভিতরে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং যে সর্বাধুনিক যে প্রযুক্তিগুলো আসছে আমরা যে প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল হচ্ছি সেগুলারও কিন্তু মনিটরিং থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যে সরকারের একটা মাইন্ডসেট সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, মাইন্ডসেট যদি না থাকে তাইলে কাজ করা কঠিন হবে।’

jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw692b080c88e61" ) );

বিলস’র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা তো মূলত মৃত্যুকূপের মধ্যে আছি। সবদিক দিয়ে বন্যা, খরা, এই ভূমিকম্পের মধ্যে যে আগুন এই কেমিক্যাল সবকিছু নিয়েই আমরা ক্ষতির মধ্যেই আছি, রিস্কের মধ্যে আছি এবং জীবননাশের এবং অঙ্গনাশের দুশ্চিন্তার মধ্যেই থাকি। এর সঙ্গে আমি বলব যে, আমাদের আশার অনেক দিকও আছে। এইযে আজকে এখানে আমরা আসছি, এখানে আমাদের দুইজন রিটায়ার্ড গভমেন্ট অফিশিয়াল আছেন এবং তারা নিজেদের আবেগের কারণে নিজের কমিটমেন্টের কারণে কিন্তু এই কাজগুলো চালিয়ে যাচ্ছেন। এটাও তো আমাদের একটা আশার দিক। আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠান খুব সততার সঙ্গে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেন। আবার আমরা অনেকেই ওইভাবে সততার সাথে কাজ করি না। এই যে আমাদের আমাদের যে দুর্বলতার দিক, আমাদের যে শক্তির দিক সবগুলো নিয়ে আলোচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ দিতে পারলেই আমরা দেশটাকে ভালো একটা দিকে নিয়ে যেতে পারবো। কারণ আমরা বেশিরভাগ মানুষই দেশপ্রেমী মানুষ। বেশিরভাগই মানুষই মানুষকে ভালোবাসার মানুষ। সে মানুষকে ভালোবাসার জন্য দেশকে দেশকে ভালোবাসার জন্য দেশকে একটা উন্নত বিশ্বে একটা উদাহরণ হিসেবে নেওয়ার জন্য আমরা সবাই মিলে কাজ করব। আমরা নিজ থেকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আমরা এটা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাব। নিশ্চয়ই আমরা যখন পলিসি তৈরি করবো, আমাদের যারা সরকারি প্রতিষ্ঠান আছেন যারা বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান আছে সবাইকে নিয়ে আমরা আবার একটু বসবো। আপনাদের সবারই পরামর্শ নিয়ে আমরা এটা তৈরি করব। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে বাস্তবায়ন করা। বাস্তবায়ন করা যাদের কাজ তারা যদি ঠিকমত না করে আর আমরা যার কাজ যেটুকু সেই কাজটুকু যদি আমরা না করি তাহলে তো কেউ আগাতে পারবে না।’

গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, ‘এটা রাষ্ট্রেরই তদারকি করার দরকার, মালিককে আমরা দুষ্ট মালিক খারাপ মালিক লোভী মালিক এগুলো আমরা বলতে পারি কিন্তু দিনশেষে আসলে কতটা কী করবে বা পরিবেশটা কি হবে সেটা রাষ্ট্রের আসলে কতটুকু মনোযোগ আছে সেটার ওপর নির্ভর করে এবং সেইটা তখনই নিশ্চিত হবে, যখন আসলে এটা যারা স্টেকহোল্ডার এবং আমাদের দেশের যারা এই বিষয় নিয়ে কাজ করেন এবং আমরা এই দেশটাকে একটা নিরাপদ দেশ হিসেবে রাখতে চাই শ্রমিকের জন্য জনগণের জন্য তাদের আসলে খুব জরুরিভাবে বারবার এই জিনিসটাকে সামনে আনা দরকার।। কারণ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যদি ঠিক না থাকে বা ভবন যদি ঠিকমত না থাকে সেটার প্রভাব শুধু যারা ওই জায়গায় কাজ করছে তারা না, যে টক্সিক যে গ্রহণ করে এটাতে যে কি পরিমাণ ভয়াবহ ক্ষতি হয় সেই জায়গাগুলো আমার মনে হয় অনেক বেশি জানা নয় এবার শ্রম আইনে যেমন একটা সেফটি কমিটির গঠনের আইনটা যুক্ত করা হয়েছে সেটার আরও বিস্তারিত হয়তো বিধিতে থাকবে। দুর্ঘটনার ঝুঁকির তালিকাগুলো মালিক এবং প্রতিনিধিদেরকে জানানো সেটার একটা ধারা এখানে যুক্ত হয়েছে। তফসিলের মধ্যেও বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার কথাগুলো উল্লেখ আছে। কিন্তু আমার মনে হয় এগুলো কিভাবে কার্যকর হবে এবং কার্যকর না হলে কি কি শাস্তি হবে সেই বিষয়গুলো আরও জোরের সাথে আমাদের সামনে আনা দরকার।’

কর্মজীবী নারী’র প্রকল্প সমন্বয়ক রিনা আমেনা বলেন, ‘আমাদের আসলে কাজের একটা বড় জায়গা হবে এই যে রাসায়নিক এবং অগ্নি দুর্ঘটনা- এই জায়গাটাতে শ্রমিকরা কিভাবে তাদের সেফটি মেজারসগুলো নিতে পারে, কিভাবে তারা নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারে, সেই জায়গাটাতে আসলে তাদেরকে কিছু ড্রিল করানো বা তাদেরকে সচেতন করার জন্য যা যা কিছু করা দরকার। একটা নিয়মিত ড্রিলের ব্যবস্থা করা, কমিউনিটির লোকজন ভূমিকম্প হলে বা আগুন লাগলে কোন দিকে দৌড় দিবে জানেনা, নারীদের ক্ষেত্রে এটা আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তারা অনেক বেশি প্যানিক করেন, শিশুরা অনেক বেশি প্যানিক করে। মানুষ যখন একটা নিয়মিত প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যায় তার মধ্যে একটা অভ্যস্ততা যখন তৈরি হয় এই প্যানিকের জায়গাটা কমে ঠাণ্ডা মাথায় সে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই প্রশিক্ষণের জায়গাটা এবং তাদের যে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করা রিস্কি জায়গাগুলোতে, সেই জায়গাগুলো আসলে নিশ্চিত করতে হবে এবং আমি মনে করি যে সুশীল সমাজ আমরা যারা কর্মজীবী নারীর মত আরও অনেক সংগঠন কাজ করেন এই সচেতনতার জায়গা এবং ক্যাপাসিটর বিল্ডিংয়ের জায়গাগুলোতে আমরা স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারি এবং পলিসি ব্রিফিংয়ের জায়গায়ও আমরা আইডেন্টিফাই করতে পারি কোথায় গ্যাপ আছে ,সেটা আসলে আমরা জানাতে পারি আমাদের সুপারিশের মাধ্যমে।’

বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার বলেন, ‘আমরা ট্রেড ইউনিয়নের জায়গা থেকে যখন কথা বলি আমরা প্রথমে আমাদের ‘নাই নাই’ যে সমস্যাটা সেটা তুলে ধরি। আমরা বলি কলকারখানা পরিদর্শন অধিদফতরের দায়িত্ব সবকিছু করার, তারা কি করছে, রেগুলেশনের দায়িত্ব, রেগুলেশন কি করছে, আজকে একটু ভিন্ন আলোচনা করি। কাউকে দোষারোপ না করে আসলে আমরা কোন দিকে যেতে পারি, সেটা জরুরি। যে নীতিমালাগুলো নেই, সেই নীতিমালাগুলো আমাদের একদম টাইমলাইন ধরে যে আমরা কতদিনের মধ্যে নীতিমালা করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আমরা অনেক অগ্রগতি করছি। স্বাধীনতার পর থেকে এই সময়ে প্রযুক্তি জ্ঞান সবকিছুর সম্ভারও কিন্তু অনেক বাড়ছে। এখনো যদি বলি আমরা আমাদের হচ্ছে আরও উৎপাদন তৈরি করতে হবে আরও শ্রমিকের জন্য কাজের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। এই জায়গা থেকে হচ্ছে যদি আমরা চিন্তা করি তাহলে আসলে আমরা পিছিয়ে যাব না। শ্রম আইনের যে সংশোধনী এসেছে, এটা ঐতিহাসিক।’

বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক পেইজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে গোলটেবিল আলোচনাটি সরাসরি প্রচারিত করা হয়েছে।

Comments

0 total

Be the first to comment.

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে BanglaTribune | অন্যান্য

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে

জুলাই আন্দোলনের মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সাড়ে পাঁ...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin