‘রাষ্ট্র যদি গান না বোঝে, আমরা কী করব’, সাবিনা ইয়াসমীনের আক্ষেপ

‘রাষ্ট্র যদি গান না বোঝে, আমরা কী করব’, সাবিনা ইয়াসমীনের আক্ষেপ

‘আমাদের দেশে শিল্পীদের কদর কোনো দিন ছিল না। এখনো নেই। রাষ্ট্র যাঁরা চালাচ্ছেন, তাঁরা যদি গানবাজনা না বোঝেন, গানবাজনাকে মূল্য না দেন, তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই। জোর করে আমরা তো কিছু করতে পারব না।’ মগবাজারের তানপুরা রেকর্ডিং স্টুডিওতে গান রেকর্ডিং শেষে কথাগুলো বলেন দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীন।

মাঝে কয়েক মাস অসুস্থতার কারণে গান থেকে দূরে ছিলেন সাবিনা ইয়াসমীন। এখন আবার নিয়মিত গাইছেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি গাইলেন ‘অতীত গল্পগুলি’ শিরোনামের নতুন একটি গান। এই গানের সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন তরুণ সুরকার ও সংগীত পরিচালক সম্রাট আহমেদ, গানটির কথা লিখেছেন ফারুক আনোয়ার। গানটি এফ এ মিউজিকের ইউটিউবে প্রকাশিত হবে।

গানটি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সাবিনা ইয়াসমীন বললেন, ‘খুব চমৎকার একটি গান। এই তরুণ সংগীত পরিচালকের সঙ্গে আমার প্রথম কাজ। খুব চমৎকার সুর করেছে। আধুনিকতার পাশাপাশি গানটিতে ৭০–৮০ দশকের মেলোডির একটা চমৎকার ছোঁয়া আছে। মনে হলো, এই সময়ে এসে সুন্দর কথা ও সুরের আরেকটি গান গাওয়া হলো।’

গান রেকর্ডিংয়ের ফাঁকে সাবিনা ইয়াসমীন কথা বললেন সংগীতাঙ্গন নিয়ে তাঁর ভাবনা। কথা প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, বাংলাদেশে কখনো গানের মানুষ ও গানের কদর সেভাবে রাষ্ট্র করেননি।

সাবিনা বললেন, ‘আমাদের দেশে শিল্পীদের কদর কোনোদিন ছিল না, এখনো নেই। রাষ্ট্র যাঁরা চালাচ্ছেন তাঁরা যদি গানবাজনা না বোঝেন, গানবাজনাকে মূল্য না দেন, তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই। জোর করে আমরা তো কিছু করতে পারব না।’

পাশের দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে এনে সাবিনা ইয়াসমীন বলেন, ‘আমরা দেখেছি, লতা মঙ্গেশকরের পা ছুঁয়ে মোদি (ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) সাহেব প্রণাম করছেন। উনারা গান ভালোবাসেন। উনারা গানকে কোথায় নিয়ে গেছেন, সেটা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। কিন্তু এমনটা কি আমাদের দেশে আমরা কখনো পেয়েছি? আমি তো বলব পাইনি। সরকারিভাবে সে রকম কোনো কিছু আমাদের চোখে পড়েনি।’

দেশে অনেক বড়মাপের শিল্পী জন্মগ্রহণ করেছেন। অনেকে আবার এরই মধ্যে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।

সাবিনা তাঁদের উদাহরণ টেনে এনে বলেন, ‘কত বড় বড় শিল্পী আমাদের দেশে ছিলেন, এখনো হয়তো দু–চারজন শিল্পী আছেন। সরকারিভাবে তাঁদেরকে তো কোনো স্বীকৃতি দিতে দেখি না। এই যে এত এত শিল্পী চলে গেলেন, তাঁদের গানগুলোকে আর্কাইভ তো করে রাখা যেত। সুবীর নন্দী হোক, এন্ড্রু কিশোর হোক—পুরোনো সবার কথা বাদই দিলাম, সে তো অনেক শিল্পী আছেন, তাঁদের সবার গানগুলো তো আর্কাইভ করার কথা কেউ চিন্তাও করে না। এটা তো আমাদের শিল্পীদের পক্ষে করা সম্ভব নয়। অথচ আমাদের আশপাশের রাষ্ট্রের দিকে তাকান, দেখবেন, রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের মানুষেরা শিল্পীদের সম্মান দিতে জানেন, সম্মান দেনও। তাঁদের সবকিছু রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করেন। আমাদের সে রকম কিছু নাই। ফরিদা পারভীনও নিভৃতে চলে গেলেন। ফরিদা পারভীনের মতো শিল্পী কি আর আসবে। কোনোদিন আসেওনি। আসলে আমাদের দুর্ভাগ্য।’

ব্যক্তিগত আক্ষেপ না থাকলেও শিল্পীদের গানের রয়্যালটি প্রসঙ্গেও কথা বলেন সাবিনা ইয়াসমীন। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য দেশে থাকলেও আমাদের এখানে গানের রয়্যালটির সুব্যবস্থা নেই। সরকার এদিকে সুদৃষ্টি না দিলে ঠিক হবে না। আবদুল আলীম, আবদুর রহমান বয়াতি থেকে বহু শিল্পীর পরিবার রয়্যালটি পেলে অনেক ভালো থাকতেন। যদি এই সিস্টেমটা ঠিক হতো, তাহলে শিল্পীরা ও তাঁদের পরিবার ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারতেন।’

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin