রাতভর টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। তার সঙ্গে যুক্ত আছে যানজট। আজ সকাল বেলায় জলজট আর যানজটে একেবারে নাস্তানাবুদ রাজধানীর বাসিন্দারা। সকালে ঘুম থেকে উঠে এই ভোগান্তি মাথায় নিয়েই অফিসে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিনগত মধ্যরাত থেকেই শুরু হয় এই বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এর দিকে আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি ঘণীভূত হতে পারে।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পূর্বাভাসে বলা হয়, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, নানান জায়গায় সৃষ্ট জলজটের কারণে আরও তীব্র হয়েছে যানজট। সড়কের খানা-খন্দ ও বড় বড় গর্তে বৃষ্টির পানি জমে বেড়েছে নগরবাসীর দুর্ভোগ।
যানজটের ভোগান্তিতে অতিষ্ট হয়ে রোখসানা রুমি নামের একজন ফেসবুক লেখেন, ‘উত্তরা দিয়াবাড়ি থেকে আজমপুর যাবো। সকালে আকাশে মেঘ। অন্ধকারেই বের হলাম। এরপর রিকশা না পেয়ে উবার নিলাম আকাশচুম্বী দাম দিয়ে। গাড়িতে বসে মনে হলো নদী হয়ে গেছে সড়কগুলো।’
এদিকে রাজাবাজারের বাসিন্দা রিপা সরকার জানান, সকালে বাসা থেকে বের হয়ে দেখেন বাসার সামনে হাঁটু পানি। রিকশার জন্য ঘণ্টা খানেক দাঁড়িয়ে থেকে বাধ্য হয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। অফিসে আর যেতে পারেননি।
উত্তরার আরেক বাসিন্দা রায়হানা সুলতানা জানান, বাসার সামনে পানি, টানা বৃষ্টির কারণে বাচ্চাদের আজ স্কুলেই পাঠাইনি। কিন্তু ঘরের কর্তা তো বের হলেন হাঁটু পানি ভেঙেই। বৃষ্টির কারণে ভোরেই বের হয়ে যান। ঘণ্টাখানেক চেষ্টায় একটা উবার পায়। এইদিনে রিকশা, উবার এবং সিএনজির ভাড়া যেভাবে বাড়ানো হয়; তা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, যানজটের চেয়ে বেশি ভোগায় রাজধানীবাসীকে।
প্রসঙ্গত, বৃষ্টি হলেই রাজধানীতে বেড়ে যায় উবার ও সিএনজি ভাড়া। রিকশা ভাড়াও স্থান কাল পাত্র ভেদে; বেড়ে দাঁড়ায় দ্বিগুণ-তিনগুণ। এ নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই নগরবাসীর। তাদের দাবি, বৃষ্টির সুযোগে জিম্মি করে ভাড়া আদায় করেন চালকরা। প্রয়োজনের তাগিদে নিরুপায় হয়ে বেশি ভাড়া দিতে বাধ্য হন তারা।
আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই বৃষ্টি আর ঘণ্টাখানেক চলতে পারে। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় বৃষ্টি কমে এসেছে। দুপুরের মধ্যে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে আশা করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মৌসুমি বায়ু এখনও বাংলাদেশের ওপরে সক্রিয়। তাই এই সময় বৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। তবে চলতি সপ্তাহে ভারী বৃষ্টি আর নাও হতে পারে।’