বলিউড তারকা রেখাকে ঘিরে আজও অনেক গল্প চর্চিত। বলিউডে তাঁর অভিনয় ও সিনেমা যেমন ছিল আলোচনায়, তেমনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও ছিল বৈচিত্র্যে ভরা। বিশেষ করে রেখার প্রেম নিয়ে বলিউডে এখনো আলোচনা চলে। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যেমন একসময় সংবাদপত্রের পাতায় শিরোনাম হয়েছে, তেমনি আশির দশকে পাকিস্তানের এক তারকা ক্রিকেটারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়েও গুঞ্জন ছিল বলিউড পাড়ায়। তিনি আর কেউ নন, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। শোনা যায়, মুম্বাইয়ে কয়েক সপ্তাহ একসঙ্গে কাটিয়েছিলেন তাঁরা, সমুদ্রসৈকতে ঘন ঘন একসঙ্গে দেখা যেত দুজনকে। এমনকি বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলেও দাবি উঠেছিল সে সময়।
আজ ইমরান খানের জন্মদিন। ৭২ বছরে পা রাখলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক ক্রিকেট কিংবদন্তি। ক্রিকেট, রাজনীতি আর ব্যক্তিজীবনের অজস্র ওঠানামার ভিড়ে রেখার সঙ্গে সেই রহস্যময় সম্পর্ক এখনো আলোচনার অংশ হয়ে আছে। এই তো কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ১৯৮৫ সালের একটি পুরোনো প্রতিবেদন।
সেখানেই দাবি করা হয়, ইমরান খান–রেখার প্রেম ছিল। বিয়ের দিকেও নাকি যাচ্ছিল সে সম্পর্ক। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি সে খবর নতুন করে প্রচার করে। শুধু কি রেখা? বলিউডের বেশ কজন অভিনেত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের কাহিনি বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। কারা তাঁরা? ইমরান খানের জন্মদিনে আজ সেইসব দিনের কিছু গল্প জানব।
রহস্যময় সম্পর্কআশির দশকে ইমরান খানের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। পাকিস্তান ছাড়িয়ে ভারতে তাঁর অগণিত ভক্ত। মুম্বাইয়ের পার্টি থেকে সমুদ্রসৈকত—যেখানেই গেছেন, প্রায়ই সঙ্গী হয়েছেন বলিউডের চিরসবুজ নায়িকা রেখা। স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয় কানাঘুষা—তাঁরা কি কেবল বন্ধু, নাকি আরও কিছু? সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮৫ সালে মুম্বাইয়ে কয়েক সপ্তাহ অবস্থান করেছিলেন ইমরান। তখন প্রায়ই দেখা যেত তাঁকে রেখার সঙ্গী হয়ে। যাঁরা তাঁদের কাছ থেকে দেখেছিলেন, তাঁদের ধারণা হয়েছিল—বন্ধুত্বের বাইরে গিয়ে সত্যিই প্রেম ফুটে উঠছে।
মায়ের ইচ্ছা, জ্যোতিষীর পরামর্শএক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রেখার মা পুষ্পাবল্লী নাকি ইমরান খানের বড় ভক্ত ছিলেন। এমনকি মেয়ের ভাগ্য যাচাই করতে দিল্লির এক জ্যোতিষীর কাছেও গিয়েছিলেন তিনি।
অনেকে বলেছিলেন, মা-ও চাইতেন ইমরান তাঁদের পরিবারের অংশ হয়ে উঠুক। তবে শেষ পর্যন্ত বিয়ে হয়নি। রেখা কখনো প্রকাশ্যে এই সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলেননি। অন্যদিকে ইমরান খান সংবাদমাধ্যমে নাকি ঠিক এভাবে মন্তব্য করেছিলেন, ‘আমি তাঁর (রেখা) সঙ্গে কিছু সময় কাটিয়েছি, তবে সামনেই এগোতে চাই। কোনো সিনেমার নায়িকাকে বিয়ে করার কথা আমি ভাবতেই পারি না।’
ভিন্ন পথে দুজনের জীবনরেখা পরবর্তী সময়ে দিল্লির ব্যবসায়ী মুকেশ আগরওয়ালকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের মাত্র এক বছরের মাথায় ১৯৯০ সালে মুকেশ আত্মহত্যা করেন। সেই ঘটনার পর থেকে আর বিয়ে করেননি রেখা। তবে ইমরানের সঙ্গে প্রেম নিয়ে রেখা কখনো কথা বলেননি। যেমনটি অকপটে বলেছেন অমিতাভের সঙ্গে প্রেমের বিষয়ে। যদিও সম্পর্কে থাকার কথা স্বীকার না করলেও প্রেমে পড়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। ২০০৪ সালে সিমি গারেওয়ালের টক শো রেন্ডেজভাস-এ যোগ দিলে রেখাকে বিগ বি-র সঙ্গে প্রেম নিয়ে সিমি প্রশ্নও তুলেছিলেন। তিনি কি আদৌও প্রেমে পড়েছিলেন? সিমি গারেওয়াল যখন রেখাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তিনি কখনো অমিতাভ বচ্চনের প্রেমে পড়েছিলেন কি না? তখন রেখা সে কথা স্বীকার করে নেন। এবং বলেন ‘অবশ্যই।’ তাঁর ভাষ্যে, ‘প্রেমে পড়লেও বাস্তবে তাঁর সঙ্গে কখনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না। এটা সত্য। কখনোই না। বিতর্ক ও জল্পনা-কল্পনার কোনো সত্যতাই ছিল না।’
মুনমুন সেনের সঙ্গে সম্পর্কশোনা যায়, অভিনেত্রী মুনমুন সেনকে ভীষণ পছন্দ করতেন ইমরান। যদিও এ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তবু তাঁদের জড়িয়ে প্রায় সংবাদ প্রকাশ হতো ভারতীয় গণমাধ্যমে। মুনমুন সেন রাজনীতিতে আসার পর বেশ কয়েকবার তাঁর মুখে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নাম শোনা গিয়েছিল। ২০১৯ সালে মুনমুন সেন ভোটের প্রচারের সময় জানিয়েছিলেন, ইমরান খান তাঁর খুব ভালো বন্ধু। এমনকি ২০২২ সালে যখন ইমরান খানের ওপর হামলা করা হয়, তখনো তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলেন রাইমা ও রিয়া। সে ঘটনাকে কাপুরুষোচিত বলে কটাক্ষ করেন সুচিত্রার দুই নাতনি।
সর্বশেষ ২০২৩ সালে এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ২০২৩ সালের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সুচিত্রা সেনের কন্যা মুনমুন সেনের একটি পারিবারিক ছবি। যেখানে মুনমুন সেন ও তাঁর দুই কন্যার সঙ্গে দেখা যাচ্ছে ইমরানকে। মুনমুন সেনের কন্যা রাইমা সেন ছবিটি পোস্ট করেছেন। স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে ছবি পোস্ট করলেও অতীতের সূত্র এবং বর্তমানের চর্চা নিয়ে ছবিটি সাড়া ফেলে। উঠে আসে পুরোনো কথা।
বলিউডের আরেক অভিনেত্রী শাবানা আজমির সঙ্গেও ইমরানের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে একসময় আলোচনায় মেতেছিল বলিউড। আর সেই জল্পনাকল্পনা কখনো উড়িয়ে দেননি শাবানা বা ইমরান। আজও তাই শাবানা–ইমরানের সম্পর্ক এক রহস্য।
সত্তরের দশকের বলিউডের এক সাহসী নায়িকা জিনাত আমান। তাঁর সঙ্গেও ইমরানের প্রেম নিয়ে আলোচনা শোনা যেত। ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে ভারতে খেলতে গিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। সেবার পাকিস্তান–ভারত ক্রিকেট নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি গুঞ্জন ওঠে জিনাত-ইমরানের সম্পর্ক নিয়ে। সে বছরই নাকি ইমরানের নামের সঙ্গে ‘প্লেবয়’ শব্দটি জুড়ে গিয়েছিল। সে বছর তৎকালীন বেঙ্গালুরু ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সাজঘরে দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে নিজের ২৭তম জন্মদিন উদ্যাপন করেছিলেন ইমরান। তবে ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সে বছর জন্মদিনটি আসলে জিনাতের সঙ্গে উদ্যাপন করেছিলেন ইমরান খান। যদিও এ নিয়ে মুখ বন্ধ রেখেছিলেন দুজনই।
ব্যক্তিগত জীবনে ইমরান তিনটি বিয়ে করেছেন। ইমরানের তৃতীয় স্ত্রীর নাম বুশরা বিবি। এর আগে ইমরান বিয়ে করেন জেমিমা গোল্ডস্মিথকে। ১৯৯৫ সাল থেকে সেই সংসার টিকেছিল ২০০৪ সাল পর্যন্ত। ২০০৪ সালের পর ইমরান বিয়ে করেছিলেন রেহাম খানকে, যে সংসার টিকেছিল মাত্র ১০ মাস।