রিশাদ নৈপুণ্যে বাংলাদেশের দাপুটে জয়

রিশাদ নৈপুণ্যে বাংলাদেশের দাপুটে জয়

ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। রিশাদ হোসেনের ফাইফারে উইন্ডিজকে একপ্রকার পাত্তাই দেয়নি টাইগাররা।

বাংলাদেশের দেয়া ২০৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৩৯ ওভার টিকতে পেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু পুরো ইনিংসজুড়েই ছিল বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের দাপট। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয় ক্যারিবীয়রা।

বাংলাদেশের হয়ে আজ জ্বলে উঠেছেন তরুণ লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। বল হাতে তুলে নিয়েছেন ৬ উইকেট, মাত্র ৩৫ রান খরচায়। তার নিখুঁত লেন্থ ও ধারালো টার্নে একের পর এক ব্যাটার বিপদে পড়েছেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রিশাদই ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের দুঃস্বপ্ন।

ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং একমাত্র কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। খেলেন ৬০ বলে ৪৪ রানের ইনিংস, যেখানে ছিল ৫ চার ও ১ ছক্কা। এছাড়া আলিক আতানাজে করেন ২৭ রান, আর শাই হোপ যোগ করেন ১৫। বাকিরা বড় ইনিংস গড়তে ব্যর্থ হন।

মেহেদী হাসান মিরাজ, দলের অধিনায়ক, বল হাতে দারুণ নিয়ন্ত্রিত স্পেল দিয়েছেন। ১০ ওভারে ৩টি মেডেনসহ মাত্র ১৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট। আর মোস্তাফিজুর রহমান তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট মাত্র ১৬ রানে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের পতনের গল্পও একঘেয়ে।  

৫১ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর নিয়মিত ব্যবধানে পড়ে যায় বাকিরাও। একসময় স্কোরবোর্ডে ৭ উইকেটে ১১৮, তারপর পুরো দল গুটিয়ে যায় ১৩৩ রানে।

এর আগে, টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৪ ওভারে ২০৭ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। দলের শুরুটা ছিল ভয়াবহ। ইনিংসের প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান (৩) ও সৌম্য সরকার (৪)। ৮ রানে দুই ওপেনার হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়। এই জুটি তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ৭১ রান। তবে শান্ত (৩২) ধীরগতির ইনিংস খেলে এলবিডব্লিউ হন খারি পিয়েরের বলে।

এরপর দলের হাল ধরেন হৃদয় ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। দু’জনের ব্যাটে ভর করে একসময় স্কোরবোর্ডে কিছুটা গতি আসে। হৃদয় করেন ৯০ বলে ৫১ রান, অঙ্কন ৭৬ বলে ৪৬ রান। কিন্তু বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেউই। ৩৪তম ওভারে গ্রিভসের বলে উইকেট দেন হৃদয়, অঙ্কনকে (৪৬) ফেরান রোস্টন চেজ।

শেষদিকে রিশাদ হোসেন ঝড় তোলার চেষ্টা করেন। মাত্র ১৩ বলে ২৬ রান করে কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেন এই লেগ স্পিনার। কিন্তু বাকিরা টিকতে পারেননি। শেষ ১০ ওভারে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ১৭, নুরুল হাসান ৯, তাসকিন শূন্য, মোস্তাফিজ ১ রানে আউট হন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করেন খারি পিয়েরে ও রোস্টন চেজ। পিয়েরে ১০ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট, চেজ ২টি, জাস্টিন গ্রিভস ২টি, জেডেন সিলস ৩টি এবং রোমারিও শেফার্ড ১টি উইকেট শিকার করেন।

এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে জিতলেই সিরিজ নিশ্চিত টাইগারদের।

এফবি

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin