রঙ-তুলির শেষ আঁচড় পড়ছে প্রতিমায়, দাম নিয়ে শঙ্কা

রঙ-তুলির শেষ আঁচড় পড়ছে প্রতিমায়, দাম নিয়ে শঙ্কা

পিরোজপুরে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা। এখন সাজানো-গোছানোর কাজ চলছে। তবে সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমার সঠিক পরিশ্রমিক পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার মাত্র কয়েকদিন বাকি। পিরোজপুরের বিভিন্ন উপজেলার প্রতিমা তৈরি হলেও সদর উপজেলার পাল পাড়ায় শত বছর ধরে চলছে প্রতিমা তৈরির উৎসব।

পালপাড়ায় সরেজমিনে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের কর্মব্যস্ততায় সময় কাটছে প্রতিমা তৈরি কারিগরদের। দূর্গাপূজার মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় কারিগরদের মাঝেও উৎসবের আমেজ বইছে। কারও হাতে কাদামাটি, কারও হাতে রঙের তুলি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কর্মব্যস্ততায় সময় কাটছে তাদের।

কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিমা তৈরিতে যে পরিমাণ খরচ হয়, সে পরিমাণে পারিশ্রমিক পাওয়া যায় না। প্রতিমা তৈরির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অনেকগুণ বেড়ে যাওয়ায় হতাশায় দিন কাটছে তাদের।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পিরোজপুরে মোট ৪৬৩টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুর সদর উপজেলায় ৫৮টি, নাজিরপুরে ১২৬টি, স্বরূপকাঠীতে (নেছারাবাদ) ১০১টি, ইন্দুরকানীতে (জিয়ানগর) ২৩টি, কাউখালীতে ২৫টি, ভান্ডারিয়ায় ৪৮টি এবং মঠবাড়িয়ায় ৭৫টি মন্দিরে এবার দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ৪৬৩টি পূজামণ্ডপের মধ্যে কম ঝুঁকিপূর্ণ ৩২২টি, ঝুঁকিপূর্ণ ৮৮টি, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৫৩টি মন্দির রয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মণ্ডপগুলো সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে।

প্রতিমা তৈরির কারিগর পরিমল পাল জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘আগের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সহজে পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও দাম বেশি দিয়ে কিনতে হয়। প্রতিমা তৈরিতে যে পরিমাণ খরচ হয়, প্রতিমা কিনতে আসা ক্রেতারা আমাদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেন না। সঠিক মূল্য না পাওয়ায় শ্রমিকদেরও মূল্যায়ন করতে পারি না।’

কারিগর দীপক কুমার বলেন, ‘প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। প্রত্যেকটি প্রতিমা সুনিপুণভাবে করার চেষ্টা করেছি। আশা করি সবার পছন্দ হবে।’

রিপা রানি পাল নামের আরেকজন বলেন, ‘আমাদের কারখানায় পর্যাপ্ত শ্রমিক আছে। সবার চেষ্টায় এবছর ৩৫টি প্রতিমা তৈরি করেছি। এগুলো নাজিরপুর, স্বরূপকাঠি, ইন্দেরহাট, ঝালকাঠি, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জায়গায় পূজার জন্য নেওয়া হবে।’

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা প্রশাসন সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বলে জানান পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দোলা গুহ।

তিনি বলেন, পূজা মণ্ডপগুলোতে পুলিশ রয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবছরও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারবেন। স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোও সার্বিক সহযোগিতা করছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আলাউদ্দীন ভূঞা জনী বলেন, মন্দিরগুলোতে পর্যাপ্ত আইশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়ন করা হবে। সহযোগী হিসেবে আনসার সদস্যরাও থাকবেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মণ্ডপগুলো সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে।

তরিকুল ইসলাম/এসআর/জেআইএম

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin