রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ এবং দ্রুত তাদের রাখাইনে প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সদর দফতরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের ভুক্তভোগী বাংলাদেশ। এর ফলে আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত চাপ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের মাধ্যমে মাদক পাচারসহ নানা অপরাধ বেড়েছে। রাখাইনে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও প্রত্যাবাসনের জন্য বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে কর্মসংস্থান দেয়ার সুযোগ নেই। স্থায়ীভাবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে একসাথে কাজ করতে হবে। এর জন্য বাংলাদেশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
এদিকে, অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ৭টি সমাধানের কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তা হলো, রাখাইন রাজ্যে যুক্তিসঙ্গত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়ন, মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধ করা, টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করা (বিশেষ করে বাংলাদেশে সদ্য আসা এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য), রাখাইনের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সেখানে আন্তর্জাতিক বেসামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা, রোহিঙ্গাদের রাখাইন সমাজ ও শাসন কাঠামোর সঙ্গে টেকসই একীভূতকরণের জন্য আস্থা গড়ার পদক্ষেপ গ্রহণ, জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান সম্পূর্ণ অর্থায়নের জন্য দাতাদের সহায়তা জোগাড় করা, দায়বদ্ধতা নিশ্চিত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, মাদক অর্থনীতি ভেঙে ফেলা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন করা।
/আরএইচ
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির ওপর চাপ তৈরি করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা; রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ ও দ্রুত তাদের রাখাইনে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে রোহিঙ্গা সংকটের ভুক্তভোগী বাংলাদেশ; আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত চাপ তৈরি হয়েছে; রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের মাধ্যমে মাদক পাচারসহ নানা অপরাধ হুমকির মুখে ফেলছে টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে রাখাইনে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও প্রত্যাবাসনের জন্য বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে কর্মসংস্থান দেয়ার সুযোগ নেই স্থায়ীভাবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে একসাথে কাজ করার আহ্বান; এ লক্ষ্যে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ