রুশ ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় কিয়েভে নিহত ৪

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় কিয়েভে নিহত ৪

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও অনেক মানুষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

জেলেনস্কি রুশ হামলাকে ‘নীচ ও পরিকল্পিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, কিয়েভে প্রায় ৪৩০টি ড্রোন এবং ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে ডজনখানেক বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কিয়েভের জ্বালানি অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। শহরের কয়েকটি ভবনে গরম সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী বলেছে, দেশটির আরও কয়েকটি অঞ্চলকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

রুশ কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দর নভোরোসিস্কে ইউক্রেনের রাতের হামলায় শেস্কহারিস তেলশোধনাগারে আগুন লাগে। একটি জাহাজ ও কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনেও আঘাত লাগে। ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ বলেন, হামলায় তিনজন নাবিকসহ চারজন আহত হয়েছেন। এতে প্রধান তেল ডিপো ও কনটেইনার টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নভোরোসিস্কের মেয়র আন্দ্রেই ক্রাভচেঙ্কো জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার পর তেল রফতানি স্থগিত করা হয়েছে।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে লিখেছেন, রাত ১২টা ১ মিনিটে আশ্রয় নেওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়। কিয়েভে ভয়ংকর শব্দ শোনা যাচ্ছে। শহরের প্রায় সব জেলাতেই আবাসিক ভবনের ওপর হামলা হয়েছে।

ইউক্রেনয়ি জরুরি সেবা দফতর বলেছে, ধসে পড়া অংশ ও আগুনে বহু বহুতল ভবন, একটি হাসপাতাল, স্কুল ও প্রশাসনিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ৪০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। দেসনিয়ানস্কি এলাকার একটি আবাসিক ভবনে আগুন থেকে ১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়। সেখানে একজন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

মেয়র ভিটালি ক্লিচকো বলেন, সব জায়গায় মেডিক্যাল টিম পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে অন্তত ৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলায় কিয়েভের সরবরাহ নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহও ব্যাহত হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, সুমিসহ আরও কয়েকটি অঞ্চলে ড্রোন ও নির্দেশিত বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে।

এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে রুশ বাহিনীর আরেকটি হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছিলেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল আবাসিক ভবন ও জ্বালানি স্থাপনা।

রাশিয়া বলছে, তাদের এসব হামলা সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে। তবে এই হামলার পর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা থেকে রুশ জ্বালানির ওপর ‘কোনও ব্যতিক্রম’ না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।  

 

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin