জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক (ইউএনএইচসিআর) হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেছেন, ‘ভুলে গেলে চলবে না যে, এই সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমার থেকে এবং সেখানেই সমাধান রয়েছে।’
মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেন, ‘এ কথা আমরা বহুবার বলেছি। আজ এখানে বলা হয়েছে। তবে আমরা জড়তার পথে চলতে পারি না এবং কোনোভাবে একটি সমাধানের আশা করতে পারি না যখন একটি পুরো জনগোষ্ঠী নষ্ট হতে থাকে। রাখাইন উপদেষ্টা কমিশনের সুপারিশগুলো আগের মতোই প্রাসঙ্গিক এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে আমাদের সম্পৃক্ততা জানাতে হবে। কিন্তু সাহসী পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনা নেই। এগুলো এমন সমস্যা যা মানবতাবাদীরা একা সমাধান করতে পারে না।’
ইউএনএইচসিআর হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় অব্যাহত রেখেছে, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শরণার্থীদের আশ্রয় দিলে জীবন বাঁচানো যায়। এত বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়া একটি বোঝা। আমি সেই দেশগুলোর প্রশংসা করি, যারা এমন নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে যা শরণার্থীদের আত্মনির্ভরতা গড়ে তোলার সুযোগ দেয়। বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক শরণার্থী এবং আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের স্থিতিস্থাপকতা উভয়কেই শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রোগ্রামগুলোতে বিনিয়োগের জন্য ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি দিয়েছে। বেসরকারি খাতও তার ভূমিকা পালন করছে এবং আমরা আশা করি যে আরও অনেক কিছু করা যেতে পারে, বিশেষত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ খাতে।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু আশ্রয়দাতা দেশগুলো, একা সেই দায়িত্ব কাঁধে নিতে পারে না। খাদ্য ও রান্নার জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রসহ বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা দীর্ঘমেয়াদে অর্থায়নের অভাব রয়েছে। আগামী বছর অর্থায়নের সম্ভাবনা ভয়াবহ। প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও আরও সংস্থান না পাওয়া পর্যন্ত আমরা আরও কাটছাঁট করতে বাধ্য হবো। দয়া করে আমাদের আরও কিছু করতে হবে। আমি আপনাদের সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি এবং অর্থায়নের পাশাপাশি, গত গ্লোবাল রিফিউজি ফোরামে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমাধান করা গুরুত্বপূর্ণ।’
হাইকমিশনার বলেন, ‘এই অঞ্চলে প্রভাবশালী দেশগুলোকে অবশ্যই পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি করতে সহায়তা করার জন্য তাদের সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করতে হবে।’