শাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হতে লাগবে ডোপ টেস্ট, গুজব ছড়ালে ব্যবস্থা

শাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হতে লাগবে ডোপ টেস্ট, গুজব ছড়ালে ব্যবস্থা

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে লাগবে ডোপ টেস্ট। ডোপ টেস্টের রসিদ ব্যতীত কোনও প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হবে না। কোনও প্রার্থীর ডোপ টেস্টের ফল পজিটিভ এলে প্রার্থী হতে পারবেন না।

গতকাল রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

শাকসুর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, দাখিল ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রার্থী নিজ উদ্যোগে শাবিপ্রবির বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগে ডোপ টেস্টের স্যাম্পল দেওয়ার পর প্রাপ্ত রসিদটি মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেবেন। নির্বাচন কমিশন অফিস সব প্রার্থীর ডোপ টেস্ট রিপোর্ট সংগ্রহ করবে। রেজাল্ট পজিটিভ হলে প্রার্থিতা বাতিল হবে। প্রয়োজনে ডোপ টেস্ট রিপোর্ট সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন গঠিত রিভিউ কমিটির চূড়ান্ত মতামত নেওয়া হবে। ডোপ টেস্টের রসিদ ব্যতীত কোনও মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হবে না। অসত্য ও অসম্পূর্ণ তথ্যের জন্য মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।’

এই অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়, ‘মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং দাখিলের সময় কোনও প্রকার মিছিল করা যাবে না। প্রার্থী, প্রস্তাবকারী, সমর্থনকারীসহ পাঁচ জনের বেশি নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে আসা যাবে না। কোনও প্রার্থী কর্তৃক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় অন্য কোনও প্রার্থী বা ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা অন্য সংগঠনের কেউ কোনও প্রকার বাধা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। প্রার্থীকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হবে।’

এ ছাড়া অনলাইনে ব্যক্তি আক্রমণ ও গুজব ছড়ালে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অনলাইনে প্রচার-প্রচারণার নিয়ম ও তা লঙ্ঘনের বিষয়ে আচরণবিধির অনুচ্ছেদ-৫-এ বলা হয়েছে, ‘অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানো যাবে, তবে তা অবশ্যই আইনসিদ্ধ ইতিবাচক পদ্ধতিতে হতে হবে। দেশের প্রচলিত আইনে নিষিদ্ধ কোনও কাজ অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা যাবে না।’

এতে আরও বলা হয়, ‘প্রচারণা ও প্রচারপত্রে কিংবা প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, চরিত্র হনন, গুজব, মানহানিকর আচরণ, অশালীন উক্তি, উসকানিমূলক কোনও কথা কিংবা কারও বিরুদ্ধে কোনও অসত্য তথ্য ছড়ানো, কোনও ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক দল বা সংশ্লিষ্ট কারও অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কোনও কিছু করা যাবে না। নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনও প্রচারণা করা যাবে না।’

এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনের জন্য ক্ষতিকর যেকোনো অনলাইন সাইট বা গ্রুপ বন্ধ, কনটেন্ট ডিলিট এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কমিশনের মনিটরিং সেল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। আচরণবিধিতে এমনটাই উল্লেখ করা আছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি কী, সে বিষয়ে উল্লেখ আছে অনুচ্ছেদ-১৮ তে। এতে বলা হয়েছে, ‘কোনও প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ বা কোনও ভোটার নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করলে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, প্রার্থিতা বাতিল অথবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা অথবা রাষ্ট্রীয়/বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী অন্য যেকোনো দণ্ডে দণ্ডিত হবে। নির্বাচনসংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।’

প্রসঙ্গত, আগামী ১৭ ডিসেম্বর শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল অনুযায়ী ২০ নভেম্বর বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। ২২ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকার আপত্তি গ্রহণ করা হবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৩ নভেম্বর। ২৪ ও ২৫ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। ২৫ ও ২৬ নভেম্বর একই সময় পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে। যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হবে ২৭ নভেম্বর। ২৮ নভেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ নভেম্বর বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। ১ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতার বিষয়ে আপিল গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা হবে। ২ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১৭ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। ওই দিন গণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হবে বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেস।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin