নোয়াখালীর হাতিয়ায় সালিশের নামে বেত্রাঘাত ও জরিমানার ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ এবং নিন্দা জানিয়েছে। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানিযেছে সংস্থাটি।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সালিশের নামে বেত্রাঘাত ও জরিমানার ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আসক বলছে, কনের বিয়ের অনুষ্ঠানে মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে গ্রামের প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি বর ও কনের পরিবারকে প্রকাশ্যে মারধর করেন এবং সালিশের নামে প্রত্যেককে ১৫টি করে বেত্রাঘাতের শাস্তি কার্যকর করেন। পাশাপাশি তাদের ওপর ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। সেই টাকা দিতে না পারায় বরপক্ষের অটোরিকশা আটকে রাখা হয়; যা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য।
আসক মনে করে, এ ধরনের শাস্তি আরোপের ক্ষমতা কোনও ব্যক্তি বা স্থানীয় সালিশকার বা কোনও কর্তৃপক্ষের নেই। বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৩৫(৫) অনুচ্ছেদ নাগরিকের আইনের সুরক্ষা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর দণ্ড থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়।
এর বাইরে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন, জোরপূর্বক জরিমানা বা সম্পদ আটকে রেখে চাপ সৃষ্টি করা সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
উল্লেখ্য, দেশের উচ্চ আদালত একাধিক রায়ে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, গ্রামীণ সালিশ বা স্থানীয়ভাবে গঠিত কোনও অবিচারিক কাঠামোর শারীরিক শাস্তি বা জরিমানা আরোপের ক্ষমতা নেই এবং এ ধরনের সব কার্যকলাপ অবৈধ ও অসাংবিধানিক।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র জোর দিয়ে বলছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া এবং তাদের প্রতি হওয়া অবমাননা ও সহিংসতার প্রতিকার প্রদান রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আসক আহ্বান জানাচ্ছে, এ ধরনের বেআইনি সালিশ, শারীরিক শাস্তি ও জোরপূর্বক জরিমানা বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আরও কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ ধরনের দুঃসাহস না পায়।