চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যার ঘটনায় সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ অক্টোবর) মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান এজাহারটি গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে রমনা মডেল থানার ইন্সপেক্টর আতিকুল ইসলাম খন্দকারকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক জিন্নাত আলী এ তথ্য জানান।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সামীরা হকের মা লতিফা হক লুছি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু, রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আমার ভাগিনা চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন সালমান শাহ (২৫) বাংলাদেশের স্বনামধন্য চিত্রনায়ক। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় আমার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী এবং আমার বোন জামাতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও তার ছোট ছেলে শাহরান শাহসহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যায়। নীলা চৌধুরী ও শাহরানসহ তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেট যাওয়ার কথা ছিল। আমার বোন ও বোন জামাতা গ্রীন রোডের বাসায় পৃথকভাবে বসবাস করতেন। তারা সালমানের ইস্কাটনের বাসায় যাওয়ার পর স্ত্রী সামিরা এবং কর্মচারী আবুল তাদের জানায়, সালমান ঘুমাচ্ছে। ঐ সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিক সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সালমান ঘুমিয়ে আছে। ঘুমে শুনে তার বাবা মা সালমানের স্ত্রী সামিরাকে বলেন, সিলেটে যাওয়ার পথে সালমানের সঙ্গে দেখা করে যাবো। এরপর তার বোন জামাতা ও সিদ্দিক তাদের গাড়িতে করে ইস্কাটনের বাসা ত্যাগ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন সাড়ে ১১টার সময় প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান, সালমানের যেন কী হয়েছে। খবর পেয়েই তারা বাসায় ছুটে যান। বাসায় গিয়ে দেখতে পান, সালমান তার বেড রুমে পড়ে আছে। দুই-একজন বহিরাগত মহিলা তার হাতে, পায়ে তেল মালিশ করছে। রুবী নামে একটি মেয়ে বসে আছে। ঐ সময় সামিরা সালমানের মাকে বলেন, বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলে। সালমানের বাবা ও মা সালমানকে নিয়ে হলি ফ্যামেলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে গলায় দড়ির দাগ এবং তার মুখমণ্ডল ও পা নীল দেখতে পায়। তখন সালমানের মা সালমানকে হলি ফ্যামিলি থেকে তাড়াহুড়া করে ঢাকা মেডিক্যালে নেয়। ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার বলেন, সালমান শাহ বেশ কিছুক্ষণ আগে মারা গেছে।