সাংবাদিকের মামলায় টিকটকার টুকটুকি কারাগারে

সাংবাদিকের মামলায় টিকটকার টুকটুকি কারাগারে

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সম্মানহানির অভিযোগে রমনা মডেল থানার মামলায় টিকটকার জান্নাতুল ফেরদৌস টুকটুকির রিমান্ড ও জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি শেষে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান এ আদেশ দেন। 

গত ২৮  আগস্ট মাগুড়ার মহম্মদপুর থানার ৬ নং ওয়ার্ড এলাকা থেকে টুকটুকি এবং তার সহযোগী শিমুল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগার পাঠানো হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম দক্ষিণ বিভাগের এসআই মোহসীন সরকার গত ১৭ সেপ্টেম্বর তার ৩ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন মঙ্গলবার ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। আসামির পক্ষে মোহাম্মদ আশিক আল মামুন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর আদালত জান্নাতুল ফেরদৌস টুকটুকিকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জান্নাতুল ফেরদৌস টুকটুকির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসহ মামলার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়, যা উদ্ধার করা প্রয়োজন। প্রাথমিক তদন্তে আসামির ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে মর্মে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মূলত আসামি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মান সম্মান বিনষ্টকারী, চাঁদা দাবি করে মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনকারী এবং সমাজে অশ্লীলতা সৃষ্টি করাই তার নেশা ও পেশা বটে। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস উদ্ধার, আসামির অপরাধ করার প্রক্রিয়া (মোডাস অপারেন্ডি) উদঘাটন, এজাহারের অপরাধে ব্যবহৃত অন্যান্য প্রমাণিক আলামত উদ্ধার/জব্দ করা, ঘটনার সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি জড়িত আছে কিনা? তাদের গ্রেফতার ও নাম ঠিকানা যাচাই করা, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী, মদদদাতা, পৃষ্ঠপোষকতাকারীকে গ্রেফতার করার জন্য তার তিন দিনের রিমান্ড প্রয়োজন। 

গত ২৩ জুলাই রমনা মডেল থানায় দৈনিক খবরের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আজিজুর রহমান টুটুল অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় অভিযোগ করেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রমনার বাসায় অবস্থানকালে সকাল ১০টার দিকে দেখতে পান, ‘খবর মোহাম্মদপুর’ নামক একটি পেজ থেকে তার ছবি ব্যবহার করে কুরূচিপূর্ণ অসত্য তথ্য প্রচার করছে। এরপর তারা তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তার ছবি ব্যবহার করে অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

পরে তদন্তে টুকটুকি, শিমুল মিয়ার সম্পৃক্ততা পায় ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম টিম।

Comments

0 total

Be the first to comment.

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে BanglaTribune | অন্যান্য

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে

জুলাই আন্দোলনের মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সাড়ে পাঁ...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin