গণমাধ্যম ইস্যুতে অনেকগুলো সুপারিশ দেয়া হয়েছিল তার একটিও বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ। একইসাথে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক সেমিনারে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার শিকার হয়েছেন। কীভাবে হয়েছেন তা আমরা সবাই জানি। সেই মিডিয়ার নামও আমরা জানি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকেই বিভিন্ন স্বার্থে অনুমোদন নিয়ে সংবাদপত্র চালাচ্ছেন। কোনও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি তুহিনকে আত্মরক্ষার কোনও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি। কারণ তার প্রতিষ্ঠানের সেই সক্ষমতা ছিল না।
কামাল আহমেদ বলেন, কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয়ার মতো দায়িত্ব যদি মালিকরা পালন না করেন তাহলে তাহলে সেটার জবাব সাংবাদিকতা সুরক্ষা আইন দিতে পারবে। আমরা সেজন্যই সাংবাদিকতা সুরক্ষা আইনের কথা বলেছি। আবার সাংবাদিক, সম্পাদক, প্রকাশক কে হবেন সেটার যোগ্যতা নির্ধারণের কথাও বলেছি।
তিনি বলেন, এই সরকারের আমলে তো আমরা ধারণাই করতে পারিনি সরকার নতুন করে কোনও গণমাধ্যমকে অনুমোদন দেবে। দেশে এমনিতেই হাজার হাজার গণমাধ্যম হয়ে গিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে কাঠামোগত পরিবর্তনের সুযোগ এসেছিল। এর জন্যই আমরা অনেকগুলো সুপারিশমালা দিয়েছিলাম। সেসবের একটিরও বাস্তবায়ন হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অর্ধমৃত প্রেস কাউন্সিলকে পুনরুজ্জীবিত কথা এটা কোন কাজের কথা নয়। কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে এবং তা স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হতে হবে। সরকার হলে সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করবে সেটা যে দলই হোক। সাংবাদিকদের প্রতি যেকোনো প্রকার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে যে আজকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাদের ধন্যবাদ যে তারা অঙ্গীকার করেছেন গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেবেন। যে সংস্কারগুলোর কথা বলা হয়েছে সেগুলো তারা বিবেচনায় নেবেন এবং সেগুলোকে বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন। তবে একইসাথে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা না দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
/এএস