রাজধানীর মোহাম্মদপুর সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে শারীরিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক পদ পুনর্বহালে দাবি জানিয়েছেন ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (৯ নভেম্বর) বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল আমিন টুটুল, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ড. আরাফে জাওয়াদ, শহীদ জিয়াউর রহমান শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ বিপ্লব মাহমুদসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক পদ গত ২ নভেম্বর বাতিল করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এই নীতিমালা আবার সংশোধন করে শারীরিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবি জানানো হয় মানববন্ধনে।
মানববন্ধন কর্মসূচির আহ্বায়ক প্রাক্তন শারীরিক শিক্ষা কলেজের ছাত্র হাফিজুর রহমান রুবেল বলেন, গত বছর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার ঘোষণা করেছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ হাজারের বেশি সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।
তিনি বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২৮ আগস্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা প্রকাশ করা হয় যার মধ্যে সংগীত ও শারীরচর্চা দুটি পদ নতুন সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু গত ২ নভেম্বর সংশোধনী দুটি নীতিমালার সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার পদ মাধ্যমে করা হয়। কী বাতিল বা কেন কারণে করা হয়েছে সরকারের কাছ তার কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যেখানে আমাদের কাঙ্ক্ষিত শারীরিক শিক্ষার পদ সৃষ্ট করা আমাদের আবার সেটা বাতিল করে তড়িঘড়ি প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৫ প্রকাশ করা হয় আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
হাফিজুর রহমান রুবেল আরও বলেন, আমাদের নতুন সৃষ্ট পদ বহালের দাবিতে আমরা পরবর্তী সময়ে আরও বৃহৎপরিসরে কর্মসূচি পালন করার পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেবো। এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় স্মারকলিপি দেবো, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেবো। তারপরেও যদি সমস্যার সমাধান না হয় তবে এই সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করবো।
মানববন্ধন ও সমাবেশে দেশের ছয়টি কলেজে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা সংহতি জানিয়েছেন বলে জানান রুবেল।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের একটি সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত এবং শারীর চর্চা বিষয়ক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দেশের ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রকল্পের আওতায় ক্লাস্টারভিত্তিক পাঁচ হাজার ১০৬ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত ২৮ আগস্ট ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’-এ পরিবর্তন আনা হয়। বিধিমালায় সংগীত শিক্ষক এবং শারীরিক শিক্ষা নামে নতুন দুটি পদ সৃষ্টি করা হয়। সোমবার (৩ নভেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘সহকারী শিক্ষক (সংগীত)’ ও ‘সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা)’ পদে নিয়োগের নিয়ম ও যোগ্যতার অংশটুকু বাদ দেওয়া হয়।