শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে স্ত্রীকে দিয়ে এসপি-ওসির বিরুদ্ধে এসআইয়ের মামলা?

শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে স্ত্রীকে দিয়ে এসপি-ওসির বিরুদ্ধে এসআইয়ের মামলা?

চলতি বছরের ২৫ মার্চ গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে তারিকুজ্জামান তুহিন নামের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানার বুড়িমারি গ্রামের এক ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময়ে গাইবান্ধা সদর থানায় কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান ‘বাংলা খবর ১৯৭১’ নামে ফেসবুকে একটি পেজ খুলে সেখান থেকে তার নামে নানা ধরনের কুৎসা রটনা করছে। এর জেরে পাটগ্রাম থানা পুলিশ একবার তুহিনকে গ্রেফতারও করে। পরে তুহিনের সংশ্লিষ্টতা না থাকায় পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।

ওই পেজ থেকে পুলিশের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নানা ধরনের কুরুচিপূর্ণ লেখাও প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর এসআই মনিরুজ্জামানকে তলব করে গাইবান্ধা পুলিশ।

পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেললা’র কার্যালয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলামসহ পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে মনিরুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হলে মনিরুজ্জামান ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় সিআইডি সদরদফতরে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

এরপর এসআই মনিরুজ্জামানকে গত ২২ এপ্রিল সদরদফতরের আদেশে গাইবান্ধা জেলা থেকে রাজশাহী রেঞ্জে বদলি করা হয়। পরে রাজশাহী রেঞ্জ থেকে তাকে  জয়পুরহাট জেলায় পদায়ন করা হয়। এর দীর্ঘদিন পর গত ২২ অক্টোবর মনিরুজ্জামানের স্ত্রী কাজলি খাতুন গাইবান্ধা সদর আমলি আদালতে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ আটকে রাখার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় গাইবান্ধার এসপি, সদর থানার ওসিকে মামলা করা হয়। মামলায় পাটগ্রামের তারিকুজ্জামান তুহিনকেও আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। 

এদিকে, প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ সদর দফতরের সূত্র বলছে, এসপি-ওসির বিরুদ্ধে এসআই মনিরুজ্জামানের অভিযোগটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। স্বামীকে বিভাগীয় শাস্তির হাত থেকে বাঁচাতে পুলিশের চেইন অব কমান্ড লঙ্ঘন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন তার স্ত্রী।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদরদফতরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রকৃত ঘটনা হলো এসআই মনিরুজ্জামানের ব্যবহৃত ল্যাপটপ ও মোবাইল থেকে তিনি নানা ধরনের কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেন। পাশাপাশি পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে পোস্ট দিতে থাকেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে যা তার এখতিয়ারের বাহিরে। এগুলো যখন ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং তদন্তে বেরিয়ে আসছে সঠিক তথ্য। ঠিক তখনই তার স্ত্রীকে দিয়ে আদালতে এ রকম অভিযোগ করানো হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার মোবাইল ও ল্যাপটপ তো কেউ আটকে রাখেনি। তার সামনেই সেগুলো জব্দ ও জিডি করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। সে বিভাগীয় শাস্তি এড়াতে এই কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।’

পুলিশ সদরদফতরের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘পুলিশের চেইন অব কমান্ড রয়েছে। কিন্তু মনিরুজ্জামান সেগুলোর তোয়াক্কাই করেননি; বরং তিনি নিজে বাঁচতে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছেন। এর আগেও তিনি যে কয়েক স্থানে চাকরি করেছেন সেগুলোতে তার রেকর্ড ভালো না, তার নামে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।’

দ্রুতই এসআই মনিরুজ্জামানের ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

এদিকে এসপি এবং ওসির বিরুদ্ধে এ জাতীয় মামলা গ্রহণের আগে আদালতের আরও অধিকতর বিবেচনার প্রয়োজন ছিল বলে মত সংশ্লিষ্ট অনেকের।

এ বিষয়ে জানেতে চাইলে পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা বলেন, ‘এখন যেহেতু পুলিশ সদরদফতর বিষয়টি দেখছে সুতরাং এখানে আমার নিজস্ব কোন ওবক্তব্য নেই।

ওসি শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘এসআই মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে যেন কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া হয় কিংবা শাস্তি থেকে বাঁচতে এ কাজ করেছেন। এখন আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ বিষয়টি দেখছেন। তারা নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

এ ব্যাপারে এসআই মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে তার স্ত্রী কাজলি খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামীর সঙ্গে অন্যায় হয়েছে বলেই আমি মামলা করেছি।’ 

অন্যান্য অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।

Comments

0 total

Be the first to comment.

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে BanglaTribune | অন্যান্য

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে

জুলাই আন্দোলনের মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সাড়ে পাঁ...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin