ম্যাচ হেরে হামজা-জামালদের মন বিষন্ন। ড্র হতে যাওয়া ম্যাচ হেরে মাঠেই হতাশ হয়ে বসে পড়লেন কেউ কেউ। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ৭ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে শেষ মুহূর্তে হংকং চায়নার কাছে এমন হার যে মোটেও প্রত্যাশিত ছিল না। বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ হতাশা কণ্ঠে হারের দায় স্বীকার করে নিয়েছেন।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে হাভিয়ের কাবরেরা বলেছেন, ‘আমি সব দায় নিচ্ছি, পুরো টিমও নিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দায় আমারই। আমরা সুযোগ পেয়ে পয়েন্ট নিতে পারিনি।’
বাছাই পর্বে তিন ম্যাচে এক পয়েন্ট বাংলাদেশের। বাকি আছে আরও তিন ম্যাচ। এর মধ্যে ১৪ অক্টোবর হংকংয়ের বিপক্ষে তাদের মাঠে ম্যাচ খেলতে হবে। কার্যত জামালদের মূল পর্বে যাওয়া বেশ কঠিন। আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে।
তবে স্প্যানিশ কোচ কাবরেরা এখনও আশাবাদী, ‘এখন আমাদের মনোযোগ পরবর্তী ম্যাচে দিতে হবে। আমাদের এখনও সুযোগ আছে। সামনে হংকংয়ের সঙ্গে আরেকটা ম্যাচ আছে। যদি আমরা সেটা জিততে পারি, তাহলে আবারও আমরা গ্রুপের শীর্ষে তিনের মধ্যে চলে আসবো।’
বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছে অনেকটাই রক্ষণের ভুলে। ম্যান কিংবা জোনাল মার্কিং সেভাবে কমই ছিল।
কাবরেরা অবশ্য অন্য কথা বলছেন,‘আমার কাছে এটা শুধুই ডিফেন্ডারদের দোষ নয়। কারণ গোলের পরিস্থিতিগুলো শুধুই ডিফেন্ডারদের ওপর নির্ভর করছিল না।’
হারের কারণ ব্যাখ্যায় কাবরেরার উত্তর, ‘এই হারের কারণ বুঝিয়ে বলা কঠিন, তবে শুরুটা ভালোই ছিল। গুছিয়ে উঠতে আমাদের কিছুটা সময় লেগেছে। কিন্তু প্রথম পাঁচ মিনিটের পর আমরা দারুণ খেলেছি। আমার এখানে আসার পর থেকে সম্ভবত এটিই সবচেয়ে ভালো প্রথমার্ধ ছিল।’
এরপর তিনি যোগ করেন, ‘একদম শেষ মুহূর্তে একটা অপ্রয়োজনীয় ভুল আমাদের বিপদে ফেলে দিয়েছে। তবে তাদের ফরোয়ার্ড ও উইঙ্গাররা শারীরিকভাবে শক্তিশালী। তারা সহজেই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।’
শমিত সোম ও জায়ান আহমেদকে শুরু থেকে না নামানোর কারণ ব্যাখ্যায় বাংলাদেশ কোচ বললেন, ‘শমিত প্রায় দুই মাস ইনজুরিতে ছিল। তাই আমরা আগেই আলোচনা করেছিলাম ওকে যেন দ্বিতীয় ম্যাচে সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় নামানো যায়। ওর ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। সে জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর তাদের এভারটন ক্লান্ত হয়ে পড়লে দ্বিতীয়ার্ধে জায়ানকে নামাবো সেটাই ভেবে রাখি। প্রথমার্ধে এভারটনকে ভালোভাবে সামলেছে সাদ।’
অন্য দিকে হংকং কোচ অ্যাশলি ওয়েস্টউড ম্যাচ জিতে খুশি। পাশাপাশি বাংলাদেশের ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘প্রতিটি গোলই কোনও না কোনও ভুলের ফল। আমাদের দ্বিতীয় গোল এসেছে বাংলাদেশের গোলরক্ষকের ভুলে। প্রথম গোল এসেছে ভুল যোগাযোগ থেকে, আমাদের ব্যাকলাইনও একটু নিচে ছিল। খুব কমই দেখা যায় ম্যারাডোনার মতো কেউ পাঁচ জনকে ড্রিবল করে গোল দেয়! তাই আমি প্রতিপক্ষকে সমালোচনা করবো না। আমি শুধু আমার দলের ভুল ঠিক করায় মনোযোগ দিতে চাই। আমরা শেষ পর্যন্ত আশাবাদী ছিলাম জিততে পারবো। জিতেছিও।’