খোঁড়াখুঁড়ি শুরুর পর চার মাস অতিবাহিত হলেও এখনও শেষ হয়নি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন পশ্চিম শেওড়াপাড়ার শামীম সরণির উন্নয়ন কাজ। ফলে ঠিকমতো গাড়ি চলাচল করতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চার মাসের মধ্যে ঠিকমতো ১৫ দিনও কাজ হয়নি এই সড়কে। দু'দিন কাজ চললে দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকে। ঠিকাদারের কোনও খোঁজখবর থাকে না। গাড়ি নিয়ে চলাচল করা যায় না। খোঁড়াখুঁড়ির প্রায় তিন মাস পর সড়কে ইট বালু ফেলে আবারও বন্ধ কাজ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শামীম সরণির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে খানাখন্দে ভরা। উন্নয়ন কাজের ধীরগতির কারণে মাত্র আধা কিলোমিটারের এই সড়কে ঠিকমতো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। মূল সড়কের একেবারে পাশে হওয়ায় দৈনিক হাজারো মানুষের যাতায়াত এই পথে। কিন্তু সড়কটি সংস্কারে দীর্ঘসূত্রতার ফলে ভোগান্তির সীমা নেই এখানকার বাসিন্দাদের।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw690210ec5ab79" ) );
এই সড়কে অবস্থিত মেডিচেইন ফার্মা নামে একটি ঔষধের দোকান, যার কর্ণধার মাহবুব আলম। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “প্রায় চার মাস হলো এই সড়কে কাজ চলছে। প্রথম কাজ চলার পর প্রায় দু'মাসের মতো কোনও কাজই হয়নি। যার ফলে আমরা ঠিকভাবে চলাফেরা করতে পারিনি। এখানকার বাসিন্দা যারা আছেন তারা অধিকাংশই নিজস্ব গাড়ি নিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সেই সুযোগ ছিল না।”
শামীম সরণির বাসিন্দা সুলতান মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “সপ্তাহখানেক হলো সড়কে কোনোরকমে ইট বালু ফেলা হয়েছে। এতদিন কিছুই ছিল না। পুরো সড়কে গর্ত ছিল। আমরা হেঁটে আসা-যাওয়া করা লাগত। এখন ঠিকাদারেরও কোনও খোঁজ নেই।”
শামীম সরণির বাসিন্দা ও একটি সরকারি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফতাব আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমার ছেলের বউ একটা বিদেশি কোম্পানিতে চাকরি করে। সেই কোম্পানির গাড়ি আগে প্রতিদিন সকালে বাসার সামনে আসতো। কিন্তু এখন সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে আসতে গাড়ি পারছে না। যার কারণে তাকে এখন পাঁচ মিনিট হেঁটে মেইন রোডে যাওয়া লাগে। গত চার মাস ধরেই এই অবস্থা। জানি না কবে এই সমস্যার সমাধান হবে।”
প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ফয়সাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমি সাধারণত বাইকে চলাফেরা করি। রোড কাটার পর প্রায় দুই আড়াই মাস কাজ স্থগিত ছিল। ফলে বাসা থেকে বাইক নিয়ে বের হতে পারিনি। যখন খানাখন্দ দিয়ে বাইক বের করেছি তখন চাকা ফুটো হয়ে গেছে। আমি সিটি করপোরেশনেও ফোন দিয়ে জানিয়েছি। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।”
শামীম সরণি ছাড়াও পূর্ব কাজীপাড়ার মাদ্রাসা মার্কেটের পাশেও একই অবস্থা। বড় বড় খানাখন্দের কারণে সেখানকার বাসিন্দাদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়াও ৫৩১/এ পশ্চিম শেওড়াপাড়ার গলির সড়কেও চলছে ধীর গতির উন্নয়ন কাজ। ফলে সেখানকার বাসিন্দাদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw690210ec5abb8" ) );
শেওড়াপাড়া আদর্শ বাড়ি মালিক সমিতির একজন সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “টেন্ডার পেয়েছে একজন কাজ করছে আরেকজন। তাছাড়া যেই ইট সড়কে কাজের জন্য আনা হয়েছে তা খুবই নিম্নমানের। এই কাজের তেমন তদারকিও হচ্ছে না। আমরা সিটি করপোরেশনে কাজের ধীরগতি এবং নিম্নমানের সরঞ্জামের বিষয়ে জানিয়েছি, দেখা যাক তারা কী করে।”
শামীম সরণির সড়কের সংস্কার কাজের তদারকির দায়িত্বে আছেন স্থানীয় যুবদল নেতা সুমন। কাজের ধীরগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে উলটো তিনিই বাংলা ট্রিবিউনের এই প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান, “কোথাও কি একটানা কাজ হতে শুনেছেন?” সরকারি কাজগুলো এমনভাবেই হয় বলে দাবি তার।
তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রথমে নিজের পকেট থেকে ইনভেস্ট করে কাজ শুরু করি। তারপর আস্তে ধীরে ১০-১৫ শতাংশ কাজের বিল হয়, আর আস্তে আস্তে কাজ হতে থাকে। সরকারি কাজ বিল যেমন দেরিতে দেয় তেমনি কাজও সেরকম দেরি হয়। তাছাড়া এই কাজের সময় এখনও শেষ হয়নি। আমার হাতে এখনও পর্যাপ্ত সময় আছে কাজে শেষ করার।”
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “বিষয়টা খুবই দুঃখজনক। আমরা সবসময় জনভোগান্তি এড়াতে আমাদের সর্বোচ্চটুকু চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই কাজের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত আছে কেন কাজের দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে আমরা তা খতিয়ে দেখবো। তাদের দায়িত্বে অবহেলা পেলে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”