জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায়ের বিরুদ্ধে ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষকেরা’ নাম ব্যবহার করে দেওয়া বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্মিলিতভাবে অব্যাহতি দাবি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) এই চারটি ছাত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকদের সই করা একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে এই বিবৃতিতে সই করা শিক্ষকদের চিহ্নিত করার জন্য দ্রুত তদন্ত শুরু করতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত খুনির পক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে হবে।’
এছাড়া ছাত্র সংসদগুলোর মতে, আদালত যাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধী’ হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ‘সেই খুনির’ পক্ষে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এমন পক্ষ নেওয়া ‘বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা প্রদর্শন এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের প্রতি চরম অবমাননাকর।’
সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মিলিত ছাত্র সংসদ যে সব শিক্ষক ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি হাসিনার’ পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তাদের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বয়কট করার আহ্বানও জানান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বিবেকহীন এসব শিক্ষকদের সামাজিক ও অ্যাকাডেমিক সব ক্ষেত্র থেকে প্রতিহত করুন। মানবতাবিরোধী অপরাধীর পক্ষ নেওয়া এই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিত ছাত্র সংসদ আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’