সেনাবাহিনী মোতায়েন ঘিরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে মামলা

সেনাবাহিনী মোতায়েন ঘিরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে মামলা

মার্কিন প্রশাসনের আদেশে শত শত ন্যাশনাল গার্ড সদস্য টেক্সাস থেকে শিকাগোর দিকে রওয়ানা দিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় সোমবার (৬ অক্টোবর) ইলিনয় অঙ্গরাজ্য ও শিকাগোর তরফ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের জারি করা নির্দেশনার পর ইলিনয় এই মামলা করে। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী ইলিনয়ের ৩০০ জন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে ফেডারেল নিয়ন্ত্রণে আনা ও অতিরিক্ত ৪০০ জন টেক্সাসের সদস্যকে শিকাগোতে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আপত্তি সত্ত্বেও সেনা মোতায়েনের অনুমতি দিতে তিনি ইনসারেকশন অ্যাক্ট প্রয়োগ করতে পারেন। এতে ডেমোক্র্যাট প্রধান অঙ্গরাজ্য ও শহরগুলোর সঙ্গে প্রশাসনের দ্বন্দ্ব তীব্র হচ্ছে।

এদিকে, মার্কিন বিচারক এপ্রিল পেরি বলেন, মামলার জবাব দাখিল না হওয়া পর্যন্ত ফেডারেল সরকার শিকাগোতে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে পারবে। তিনি বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত সময় দেন।

এই বিরোধের সূত্রপাত ওরেগনের এক রায় থেকে, যখন আরেক বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনকে অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় শহর পোর্টল্যান্ডে ন্যাশনাল গার্ড পাঠানো থেকে সাময়িকভাবে বিরত থাকতে বলেন।

অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন চলাকালে মার্কিন সরকার আদালতে জানায়, টেক্সাসের গার্ড সদস্যরা ইতোমধ্যে পথে রয়েছে। ট্রাম্প পরবর্তীতে আরেকটি নির্দেশনা জারি করে অতিরিক্ত ৩০০ জন ইলিনয় গার্ড সদস্যকে ডেকে পাঠান।

পেরির রায়ের পর হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনে তিনি ১৭৯২ সালের ইনসারেকশন অ্যাক্ট ব্যবহার করবেন, যা সেনাদের সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি প্রয়োজন হয়, আমি তা করব। এখনও প্রয়োজন হয়নি, কিন্তু এই আইন থাকার একটা কারণ রয়েছে। যদি মানুষ মারা যায় আর আদালত বা গভর্নররা আমাদের বাধা দেয়, তবে অবশ্যই আমি তা প্রয়োগ করব।

যুক্তরাষ্ট্রে এই আইনের ব্যবহার খুব বেশি হয়নি। সর্বশেষ ১৯৯২ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এটি প্রয়োগ করেন, যখন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর লস অ্যাঞ্জেলসে জাতিগত দাঙ্গা দমনে সহায়তা চেয়েছিলেন।

বর্তমানে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন অঙ্গরাজ্য ও শহরগুলো ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। হোয়াইট হাউজের দাবি, এটি সরকারি ভবন ও কর্মীদের ‘সহিংস দাঙ্গা’ ও ‘অরাজকতা’ থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজন। তবে ডেমোক্র্যাট নেতাদের পাল্টা যুক্তি, তাদের শহরে অপরাধের মাত্রা অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহার বাড়িয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে সেনা মোতায়েন ও ভেনেজুয়েলার উপকূলে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অভিযান চালানোর নির্দেশ।

ন্যাশনাল গার্ড সাধারণত অঙ্গরাজ্যভিত্তিক বাহিনী, যারা গভর্নরের অধীনে থাকে। তবে ফেডারেল নিয়ন্ত্রণে আনা হলে তারা প্রেসিডেন্টের নির্দেশে কাজ করে।

ট্রাম্প ইতোমধ্যে লস অ্যাঞ্জেলস, শিকাগো, ওয়াশিংটন ডিসি এবং পোর্টল্যান্ডে ন্যাশনাল গার্ড পাঠিয়েছেন, যা নিয়ে রাজ্য ও শহর কর্তৃপক্ষ মামলা করেছে।

Comments

0 total

Be the first to comment.

নেপালের পার্লামেন্ট ভাঙার প্রশ্নে থমকে আছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আলোচনা BanglaTribune | আন্তর্জাতিক

নেপালের পার্লামেন্ট ভাঙার প্রশ্নে থমকে আছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আলোচনা

নেপালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পাউদেল এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কা...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin