খাগড়াছড়িতে শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) শেষ বিকালে অবরোধকারী ও স্থানীয়দের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শহরের খেজুরবাগান, উপজেলা পরিষদ এলাকা, চেঙ্গী স্কয়ার, মহাজনপাড়া ও নারিকেল বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। শহরের অরণ্য বিলাস ও মাউন্টইন হোটেল ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বনির্ভর বাজার এলাকায় বাঙালি ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে জুম্ম ছাত্র ফ্রন্টের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ কর্মসূচি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাশাপাশি ৭ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খাগড়াছড়ি পৌরসভা ও সদর উপজেলার আশপাশে এবং গুইমারা উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। খাগড়াছড়ি পৌরসভা ও উপজেলার আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার।
অন্যদিকে গুইমারা উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইরিন আকতার।
উভয় উপজেলায় শনিবার দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা অব্যাহত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সকাল থেকে হরতালের সমর্থনে জেলার বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে, গাছে অগ্নিসংযোগ করে করেছে। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর করেছে। অবরোধকারীদের ভাঙচুরের হাত থেকে বাদ যায়নি লাশ পরিবহন করা অ্যাম্বুলেন্সও।
খাগড়াছড়ির আলুটিলা পুনর্বাসন এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে আসা লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর ও চালককে পিটিয়ে আহত করেছেন অবরোধকারীরা। দুপুর ১টার দিকে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ ও উপজেলা পরিষদ এলাকায় উত্তেজিত পাহাড়ি ও বাঙালিদের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
পুরো জেলায় পরিস্থিতি থমথমে বলে জানা গেছে। সাজেকে আটকা পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শতাধিক পর্যটককে সেনাবাহিনী, বিজিবি নিরাপত্তা দিয়ে খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলা পার করে খাগড়াছড়ি নিয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত পর্যটকরা খাগড়াছড়িই আছেন। পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে রাতে বা আগামীকাল (রবিবার) তাদেরকে নিজ নিজ গন্তব্যে নেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, খাগড়াছড়িতে এক স্কুলশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে ‘জুম্ম ছাত্র জনতা’র সকাল-সন্ধ্যা শনিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ ডাকে।
অবরোধের কারণে শনিবার সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক ও আন্ত সড়কে কোনও ধরনের যানবাহন চলাচল করেনি।