ডানেডিনে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সহজেই ৮ উইকেটে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। তাতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৩–১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে স্বাগতিক দল।
জয়ের মূল কারিগর ছিলেন জ্যাকব ডাফি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো চার উইকেট নেওয়া এই পেসার এক ওভারে তুলে নেন তিনটি উইকেট। যার মধ্যে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার। পরে টিম রবিনসন ও ডেভন কনওয়ের দারুণ সূচনায় কিউইরা ২ উইকেট হারিয়ে ২৬ বল হাতে রেখে ১৪১ রানের লক্ষ্য ছুঁয়েছে। ডাফি ৩৫ রানে নেন ৪টি উইকেট।
টস হেরে ব্যাট করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ওভারেই হারায় প্রথম উইকেট। কাইল জেমিসন তুলে নেন আরেক ওপেনার আলিক আথানাজের উইকেট। ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় তৃতীয় ওভারে। ডাফি এক ওভারে তুলে নেন হোপ, আকিম অগাস্ট, ও শেরফানে রাদারফোর্ডের উইকেট। মাত্র ২১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রোস্টন চেজ ও রোভম্যান পাওয়েল মিলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তাতে পাওয়ার প্লেতে স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৪৭।
পাওয়ার প্লের পরের ওভারেই পাওয়েলকে ফেরান মাইকেল ব্রেসওয়েল। চেজ কিছুক্ষণ ধরে খেললেও শেষ পর্যন্ত দলের ৯০ রানে কাটা পড়েন তিনি। একটি বড় ছক্কা হাঁকানো জেসন হোল্ডারও আউট হন দ্রুত। তাতে ৯২ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে ক্যারিবিয়ান দল। এরপর রোমারিও শেফার্ড একাই পাল্টা লড়াই চালান। ৭ বল থেকে ১ রান নেওয়ার পর পরের ১৫ বলে করেন ৩৫! যার মধ্যে ছিল তিনটি চার ও তিনটি ছক্কা। পরে অবশ্য ডাফির শিকার হয়ে নবম উইকেটে হিসেবে বিদায় নেন। তখন স্কোর ছিল ১৩৭। শেষে জিমি নিশাম ১৮.৪ ওভারে জেইডেন সিলসকে ফিরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংস গুটিয়ে দেন ১৪০ রানে।
জবাবে ওপেনার টিম রবিনসন ঝড় তোলেন শুরু থেকেই। সঙ্গে ডেভন কনওয়ে থাকলেও তিনি ছিলেন ধীরস্থির। পাওয়ারপ্লেতেই নিউজিল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৬১।
সপ্তম ওভারে রবিনসনকে ফিরিয়ে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিলেন শেফার্ড। কিন্তু ততক্ষণে স্কোর ৬৯! তার জায়গায় আসা রাচিন রবীন্দ্রও একই ছন্দে খেলতে থাকেন। দুইটি চার ও এক ছক্কা হাঁকিয়ে দ্রুত ২১ রান করেন তিনি। যদিও দলের ১০৬ রানে স্প্রিঙ্গারের বলে ফিরতে হয় তাকে। তার পর বাকি পথটা সহজেই পার করেন কনওয়ে ও মার্ক চ্যাপম্যান। কনওয়ে ৪২ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন। চ্যাপম্যান ১৩ বলে ২ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ২১ রানে। তারা অবিচ্ছিন্ন ছিলেন ৩৫ রানে।