অকল্যান্ডে নাটকীয় এক ম্যাচে শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩ রানে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির এই জয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে স্বাগতিক দল। ২০৮ রানের টার্গেটে শেষ দিকে রোভম্যান পাওয়েলের ঝড়ো ১৬ বলে ৪৫ রানের ইনিংসের পরও জেমিসনের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে জয়ের দেখা পায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
৬ বলে দরকার ছিল ১৬ রান। তখন মাঠে পাওয়েল ও ম্যাথু ফোর্ডে। প্রথম বলে চার মারেন ফোর্ডে। পরের বল ডট গেলেও তৃতীয় ডেলিভারিতে নো বলের সুবাদে আসে ৫ রান। ব্যবধান কমে আসে তাতে। চতুর্থ বৈধ ডেলিভারিতে পাওয়েল মেরে খেলতে গিয়ে ৪৫ রানে কাটা পড়লে সেখানেই পথ হারায় সফরকারী দল। শেষ দুই বলে ৬ রানের দরকার পড়লেও মাত্র ২ রানই নিতে পারে তারা।
তার আগে ১৩তম ওভারের শেষ দিকে সফরকারীরা ৯৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই মুহূর্তে পাওয়েলকে যোগ্য সঙ্গ দেন রোমারিও শেফার্ড (১৬ বলে ৩৪) ও ম্যাথিউ ফোর্ডে (১৩ বলে অপরাজিত ২৯)। ৮ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ থামে ২০৪ রানে।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৩১ রানে তিনটি উইকেট নেন মিচেল স্যান্টনার। ৩৯ রানে তিনটি নেন ইশ সোধিও।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ২০৭ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় নিউজিল্যান্ড। ডেভন কনওয়ে ও টিম রবিনসনের উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৭ ওভারে যোগ হয় ৫৫ রান। দুজনই দ্রুত ফিরলে চাপ সামলানোর দায়িত্ব পড়ে রাচিন রবীন্দ্র ও মার্ক চ্যাপম্যানের ওপর। ইনিংসের প্রথমভাগে তারা কিছুটা সতর্ক থাকলেও ১৩তম ওভারের পর চ্যাপম্যান ঝড় তুলেন। শেফার্ডের এক ওভারে তিন ছক্কা ও এক বাউন্ডারি মারার পর পরের দিকে জেইডেন সিলসের এক ওভারে ২৩ রান নেন চ্যাপম্যান। মাঝখানে রবীন্দ্র আউট হলেও ড্যারিল মিচেলও যোগ দেন তাণ্ডবে। ডেথে যাওয়ার আগে চার ওভারে আসে ৮২ রান। এটাই টার্নিং পয়েন্ট দাঁড়ায়। ২৮ বলে ৬ চার ও ৭ ছক্কায় ৭৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন চ্যাপম্যান। দলের ১৬৪ রানে ফেরেন তিনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ বল হাতে শেষ দিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও শেষ ওভারে সিলসের বলে মিচেল স্যান্টনার ও মিচেলের ব্যাট থেকে আসে আরও ১৯ রান। যা নিউজিল্যান্ডকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করায়। মিচেল ১৪ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। স্যান্টনার ৮ বলে ২ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ১৮ রানে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৩৩ রানে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন রোস্টন চেজ।