শিক্ষাবিদ, কথাসাহিত্যিক, সংস্কৃতিচিন্তক ও পেন বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্মরণে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
লেখক ও সাহিত্যিক, ব্লগার ও সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ শাখার উদ্যোগে শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারিদ মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা এবং সাহিত্য অঙ্গনে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন এক আলোকবর্তিকা। তিনি নিঃসন্দেহে একজন ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তার উদারতা এবং আন্তরিকতা ছিল অতুলনীয়।
বক্তারা আরও বলেন, সংস্কৃতি অঙ্গনে যারা কাজ করেছেন, সবাই কোনও না কোনোভাবে তার সহযোগিতা পেয়েছেন। তার শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষে আবদ্ধ ছিল না, ছড়িয়ে পড়েছিল শুভচিন্তার প্রত্যেক মানুষের মনে। শিক্ষার্থীদের কাছে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। তার মৃত্যু মানে এক প্রজ্ঞাদীপ্ত যুগের অবসান। জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মননশীলতার জগতে গভীর এক শূন্যতা সৃষ্টি করেছে তার চলে যাওয়া।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পেন বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল কবি জাহানারা পারভীন এবং নিবেদিত কবিতা পাঠ করেন কবি জাহিদ হায়দার। এ সময় ভায়োলিন পরিবেশন করেন ড. শিউলী ভট্টাচার্য, তার সঙ্গে তবলায় ছিলেন সুকান্ত দাস। সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের জীবনী পাঠ করেন কথাসাহিত্যিক শাহনাজ নাসরীন।
স্মৃতি চারণ ও বক্তব্য শেষে অনুষ্ঠানে ‘প্রেম ও প্রার্থনায় সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ থেকে অংশ বিশেষ পাঠ করেন বাচিক শিল্পী ভাস্মর বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় স্মারকগ্রন্থ 'প্রেম ও প্রার্থনায় সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম' মোড়ক উন্মোচন।
পেন বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট কবি সঞ্চালক কবি শামীম রেজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, কবি আসাদ মান্নান, প্রফেসর ড. সানজিদা হোসাইন, প্রফেসর নজরুল ইসলাম, সৈয়দা নোভেরা আনোয়ার (সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ভাতিঝি লন্ডনের ব্রুনেল ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষারত)।
সমাপনী ভাষণ রাখেন পেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. সামসাদ মর্তূজা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পেন বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ মহিউদ্দিন এবং কবি সাকিরা পারভীন।