আন্দোলনরত বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি নবম দিনেও অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে এই আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতারা।
সোমবার (২০ অক্টোবর) আন্দোলনরত শিক্ষক–কর্মচারীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে এ্যানি বলেন, ‘আমরা যদি ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পাই, তাহলে আগামী দিনে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিসরূপ শিক্ষাকে আধুনিকরণের লক্ষ্যে সম্পূর্ণভাবে জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট সভাপতি এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘সরকারের পক্ষের পুলিশ, বিজিবি কোনও বাহিনী দিয়ে শিক্ষকদের আটকে রাখা সম্ভব নয়। দাবি আদায় না করে শিক্ষকরা ঘরে ফিরে যাবেন না।’
২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, এক হাজার ৫০০ টাকা মেডিক্যাল ভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপনের দাবিতে গত ১২ অক্টোবর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির বিভিন্ন পর্যায়ে কালো পতাকা মিছিল, অনশন করছেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার (১৯ অক্টোবর) শিক্ষা ভবন অভিমুখে শিক্ষকরা থালা-বাটি নিয়ে ‘ভুখা মিছিল’ করেন। অন্যদিকে সারা দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। তবে শিক্ষা উপদেষ্টা জানিয়েছেন অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মবিরতি পালন করছেন না।
গতকাল রবিবার (১৯ অক্টোবর) এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২০০০ টাকা) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন শিক্ষকরা। শিক্ষকরা জানান, ৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া আমাদের আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয়। কিন্তু ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, এক হাজার ৫০০ টাকা মেডিক্যাল ভাতা ও ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি না করা পর্যন্ত আমাদের সব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।