মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন ও এর প্রেক্ষিতে সংঘটিত ঘটনাবলির বিষয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানান তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকরা রাজধানী ঢাকায় সমবেত হয়ে বিগত কয়েকদিন বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, বেতন বৈষম্য নিরসনসহ বেশ কয়েকটি যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক কোনও উদ্যোগ না পাওয়ায় শিক্ষকরা কর্মবিরতি ও সমবেত হয়ে আন্দোলন করে যাচ্ছেন।
এ দিকে, আন্দোলন চলাকালীন গত ১২ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষকদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও নির্যাতনের ঘটনায় শিক্ষকদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত পেশার মানুষদের প্রতি এমন আচরণ ছিল দুঃখজনক, একইসঙ্গে অগ্রহণযোগ্য।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মনে করে, শিক্ষকদের দাবি শুধু তাদের আর্থিক বা পেশাগত অধিকার নয়— এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক স্বীকৃতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই আসক সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে তাদের দাবিগুলোর ইতিবাচক সমাধান করতে এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বিশ্বাস করে, সংলাপ ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই চলমান সংকটের সমাধান সম্ভব। সরকারের বিচক্ষণ ও মানবিক পদক্ষেপই পারে শিক্ষক সমাজের মর্যাদা রক্ষা করতে এবং শিক্ষাঙ্গনে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে। পাশাপাশি, আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর বল প্রয়োগের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থ্যা নেওয়ার অনুরোধ জানায় আসক।