বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালনা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আরও চারজন সদস্য। তারা হলেন, আজাদ আবুল কালাম, সামিনা লুৎফা নিত্রা, লায়েকা বশীর এবং র্যাচেল প্যারিস।
বুধবার (১ অক্টোবর) বিকালে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদের কাছে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে অভিনয়শিল্পী আজাদ আবুল কালাম বলেন, ‘অকার্যকর পরিষদের সদস্য হয়ে থাকার কোনও মানে হয় না। মনে হয়েছে, আমাদের খামোখা রাখা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী প্রতি ৩ মাসে পরিষদের সভা হওয়ার কথা, সেটি হয়নি। শেষ সভা হওয়া ৯মাস অতিবাহিত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিয়ম হলো, শিল্পকলা যদি কোনও উদ্যোগ নেয় সেটাও পরিষদের অনুমতিক্রমে হতে হবে। এরকম কিছু আমাদের নজরে আসেনি। সেক্ষেত্রে বেআইনিভাবে শিল্পকলা কিছু করলে তার কর্মকাণ্ডের দায়ভার আমাদের ওপরে বর্তাবে, অথচ আমাদের কিছু জানানো হয় না।’
উল্লেখ্য, বিগত নয় মাসে পরিচালনা পরিষদের সভা হয়েছে মাত্র একবার। সেটি হয়েছে সৈয়দ জামিল আহমেদ থাকাকালে। মহাপরিচালক পদ থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ জামিল আহমেদের পদত্যাগের পরও পরিষদের কোনও সভা ডাকা হয়নি।
শিল্পকলা একাডেমি আইনের ১২(১) উপধারা অনুযায়ী, পরিষদ প্রতি তিন মাসে কমপক্ষে একবার সভায় মিলিত হবে এবং সভার তারিখ, সময় ও স্থান পরিষদের সভাপতি নির্ধারণ করবেন।
এর আগে গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে শিল্পকলার চারুকলা বিভাগের পরিচালক মোস্তফা জামান পদত্যাগ করেন, আর জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে শিল্পকলার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী আর অফিস করেননি। পরে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানা যায়। ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর মহাপরিচালক পদে নাট্যনির্দেশক ও গবেষক অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদকে দুই বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। কয়েক মাস যেতেই নাটকীয়ভাবে তিনিও ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগ করেন। সম্প্রতি নতুন মহাপরিচালক পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।