সিনেমার ‘নবাব’ আনোয়ার হোসেনকে কি মনে পড়ে

সিনেমার ‘নবাব’ আনোয়ার হোসেনকে কি মনে পড়ে

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য নাম আনোয়ার হোসেন। তাকে বলা হয় ‘বাংলার মুকুটহীন নবাব’। আজ ১৩ সেপ্টেম্বর, এই কিংবদন্তি অভিনেতার ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৩ সালের এই দিনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সময়ের আবর্তে হারিয়ে গেলেও তিনি এখনো বেঁচে আছেন ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’র মতো চরিত্রে, তার শক্তিশালী অভিনয়ে।

খান আতার পরিচালনায় ১৯৮০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক ছবি ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’-তে নাম ভূমিকায় দাপুটে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন দর্শকের প্রিয় অভিনেতা ও দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক মাইলফলক। এই একটি চরিত্রই তাকে এনে দেয় ‘নবাব’ উপাধি।

কিংবদন্তি এই অভিনেতা অভিনয় করেছেন প্রায় পাঁচ শতাধিক সিনেমায়। তার দীর্ঘ ৫১ বছরের অভিনয়জীবনে একের পর এক কালজয়ী চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। ১৯৫৮ সালে ‘তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হলেও তার প্রকৃত উত্থান ষাটের দশকের মাঝামাঝিতে।

তার উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘লাঠিয়াল’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘নয়নতারা’, ‘ভাত দে’, ‘কাঁচের দেয়াল’, ‘জীবন থেকে নেওয়া’, ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘রংবাজ’, ‘সূর্যস্নান’ সহ অসংখ্য জনপ্রিয় ও দর্শকনন্দিত চলচ্চিত্র।

১৯৭৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে পুরস্কৃত হন ‘লাঠিয়াল’ ছবির জন্য। ১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ছবিতে সহ-অভিনেতার পুরস্কার এবং ২০১০ সালে আজীবন সম্মাননা পান।

আনোয়ার হোসেন ১৯৩১ সালের ৬ নভেম্বর জামালপুরের সরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল। স্কুলজীবনে প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন আসকার ইবনে সাইকের নাটকে। ঢাকায় আসেন ১৯৫৭ সালে এবং পরে নাসিমা খানমকে বিয়ে করেন।

তবে কালের পরিক্রমায় এই কিংবদন্তি শিল্পীকে আজ চলচ্চিত্র সমাজ অনেকটাই ভুলে গেছে। তার জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী সবই কাটে কোনো আয়োজন ছাড়া।

এলআইএ/এএসএম

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin