মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্টের শেষ দিনে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে খেলছিল আয়ারল্যান্ড। বিশেষ করে লোয়ার অর্ডারে কার্টিস ক্যাম্ফারই ছিলেন মূল প্রভাবক। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২১৭ রানে শেষ টেস্ট জিতে দুই ম্যাচের সিরিজে আইরিশদের ধবলধোলাই করেছে। সার্বিকভাবে এই টেস্ট ছিল বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিকও। এই টেস্ট দিয়েই বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলেছেন মুশফিকুর রহিম। আবার এই টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেট শিকারি হয়েছেন তাইজুল ইসলাম। ছুঁয়েছেন ২৫০ উইকেটের মাইলফলক। তাছাড়া ১৩ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরাও ছিলেন তিনি। ম্যাচ শেষে তাইজুলের নিষ্ঠা, ধারাবাহিকতা প্রশংসা করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার মতে, গত এক যুগে বাংলাদেশের টেস্ট পরিচিতি গড়ে তোলার পেছনে তাইজুলের অবদান অনন্য।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেছেন, ‘এটা খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক। আমি মনে করি, তাইজুল ভাই বহু বছর ধরে যেভাবে খেলছেন—বিশেষ করে তার কাজের যে নীতি—এটা নিঃসন্দেহে অনন্য। তিনি সবসময়ই মাঠে ও মাঠের বাইরে পরিশ্রম করেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, তিনি সবকিছুই নীরবে করেন। অনেকেই তাকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন না, বা চান না, বা সুযোগ পান না। আমি আগের এক প্রেস কনফারেন্সে বলেছিলাম, কীভাবে টেস্ট ক্রিকেট এগোতে পারে। আমরা সবাই যদি এই ফরম্যাট নিয়ে কথা বলি এবং যারা ভালো করছে তাদের তুলে ধরি, এগুলো নিয়ে আলোচনা হলে টেস্ট ক্রিকেটের অবস্থানও বদলে যাবে।’
শান্ত মনে করেন সবার আগে দলকে পারফর্ম করতে হবে। এ সময় তাইজুল ও মুশফিকের প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, ‘সবার আগে আমাদের পারফরম করতে হবে। তাইজুল ভাই বা মুশফিক ভাই—তারা অনেক কিছু অর্জন করেছেন, সামনে আরও বড় কিছু অর্জন করবেন। এসব অর্জন যত বেশি আলোচিত হবে, ততই মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। তখন মানুষ টেস্ট ক্রিকেটের আসল গুরুত্বটা বুঝতে শুরু করবে। তাই আশা করি, আমাদের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আপনারা (মিডিয়া) এসব বিষয়ও তুলে ধরবেন এবং এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করবেন।’