সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে কারচুপির অভিযোগকারী ছাত্রীকেই সন্দেহ কমিশনের

সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে কারচুপির অভিযোগকারী ছাত্রীকেই সন্দেহ কমিশনের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) এক শিক্ষার্থীর ভোট কারচুপির অভিযোগে সিসিটিভি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করেছে নির্বাচন কমিশন। তারা বলছে, ভোটকেন্দ্রে ওই শিক্ষার্থীর কর্মকাণ্ডই সন্দেহজনক মনে হয়েছে।

আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই ঘটনা প্রসঙ্গে নিজের বক্তব্য জানান প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘৯ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের দিন আনুমানিক বেলা ১১টা নাগাদ টিএসসি কেন্দ্র থেকে কেন্দ্রপ্রধান আমাকে ফোনে জানান, একজন ছাত্রী (ভোটার) এক নম্বর টেবিল থেকে ব্যালট গ্রহণ করে বুথে প্রবেশ করেন। প্রায় এক মিনিটের বেশি সময় পর তিনি বুথ থেকে বের হয়ে দাবি করেন, তার একটি ব্যালটে দুটি প্রার্থীর পক্ষে পূর্ব থেকেই ক্রস চিহ্ন দেওয়া ছিল। ওই ছাত্রী ওই ব্যালটে ভোট প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে সেখানে উপস্থিত পোলিং অফিসার এবং ভোট ব্যবস্থাপকদের সহায়তায় তাঁর কাছ থেকে চিহ্নিত ব্যালটটি সংগ্রহ করে আলাদা একটি প্যাকেটে সংরক্ষণ করা হয় এবং তাঁকে নতুন করে ব্যালটের ১ নম্বর পাতাটি প্রদান করা হয়। পরে তিনি আবার বুথে প্রবেশ করে ভোট দেন এবং চলে যান।’

প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে অবহিত হওয়ার পরপরই আমি চিহ্নিত ব্যালটটি সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিই এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠনের অনুরোধ জানাই। পরে সেখানে উপস্থিত তিনজন শিক্ষককে আমরা ঘটনাটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি এবং তাঁদের বর্ণনার সঙ্গে কেন্দ্রপ্রধানের বক্তব্যের মিল পাওয়া যায়। ফলে ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসিত হয় এবং প্রচলিত নিয়ম ও প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।’

জসীম উদ্দিন বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে আমাদের হাতে ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ আসে। ফুটেজ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ছাত্রী চারবার বুথে প্রবেশ করেন। প্রথমবার আনুমানিক ৪০ সেকেন্ড, দ্বিতীয়বার আনুমানিক ৬৬ সেকেন্ড, তৃতীয়বার আনুমানিক ২ সেকেন্ড এবং চতুর্থবার আনুমানিক ১০ মিনিটেরও বেশি সময় বুথে অবস্থান করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ভোট দিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করেন।’

জসীম উদ্দিন বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে তাঁর (ওই ছাত্রী) বারবার বুথে প্রবেশ ও বের হওয়া এবং সেখানে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপচারিতা আমাদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ ও সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।’

৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট চলাকালে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক প্রার্থী রূপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা তাঁর এক বান্ধবীর বরাত দিয়ে টিএসটি কেন্দ্রে একটি ব্যালটে দুই প্রার্থীর নামের পাশে আগে থেকেই ‘ক্রস (ভোট)’ দেওয়া ছিল বলে অভিযোগ তোলেন।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin