আজকের যুগে প্রায় সবার হাতেই রয়েছে একটি স্মার্টফোন, আর এর অর্থ — সবার কাছেই এখন একটি ক্যামেরা আছে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে স্মৃতি ধরে রাখা হোক, রঙিন সূর্যাস্ত কিংবা হঠাৎ ঘটে যাওয়া মজার মুহূর্ত — সবই আমরা মুহূর্তে ধারণ করতে পারি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের অধিকাংশের ফোনের গ্যালারি ভর্তি থাকে অসংখ্য নিস্প্রাণ ও একঘেয়ে ছবিতে। কারণ, আমরা জানি না কীভাবে ভালো ছবি তোলা যায়।
ছুটি কাটাতে যান বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন — একটি সুন্দর ছবি স্মৃতিকে করে তুলতে পারে স্থায়ী, যা আপনি বারবার ফিরে দেখতে চাইবেন। আর যারা সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়, তাদের জন্য এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আজকের প্রতিবেদনে থাকছে স্মার্টফোনে দুর্দান্ত ছবি তোলার সেটিংস, সহজ কিন্তু কার্যকর কিছু কম্পোজিশন টিপস, এবং পেশাদার ফটোগ্রাফারদের কিছু বিশেষ পরামর্শ।
স্মার্টফোনের ক্যামেরা সেটআপ বোঝা
বর্তমানের প্রায় সব স্মার্টফোনেই একাধিক ক্যামেরা থাকে — সাধারণত ওয়াইড (মূল), টেলিফটো, এবং আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স। এগুলো একসঙ্গে কাজ করে, ফলে আপনি জুম ইন বা আউট করলে ফোন নিজে থেকেই উপযুক্ত লেন্সে বদলে নেয়।
ভিউফাইন্ডারে আপনি সাধারণত 0.5x, 1x, 2x বা 5x চিহ্ন দেখতে পাবেন — এগুলোই প্রতিটি ক্যামেরার নির্দিষ্ট জুম লেভেল। চেষ্টা করুন এই নির্দিষ্ট জুম লেভেলেই ছবি তুলতে, কারণ মাঝামাঝি ডিজিটাল জুম (যেমন 2.7x) ছবির গুণমান নষ্ট করে।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68fa01531accb" ) );
কোন লেন্সে কোন ছবি তুলবেন
১. মানুষের ছবি: মেইন বা টেলিফটো লেন্স ব্যবহার করুন। এতে বিকৃতি কম হয় এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে সুন্দর ব্লার পাওয়া যায়।
২. প্রাকৃতিক দৃশ্য: আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স ব্যবহার করুন, যা বিস্তৃত দৃশ্য ধারণে উপযোগী।
৩. দূরের বিষয়বস্তু: টেলিফটো লেন্স ব্যবহার করুন, তবে 10x-এর বেশি জুম এড়িয়ে চলুন।
পোর্ট্রেট মোডে সাবধানতা
পোর্ট্রেট মোড কৃত্রিমভাবে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করে, ফলে অনেক সময় ছবিতে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। প্রাকৃতিক ব্লার পেতে টেলিফটো লেন্স ব্যবহার করে কিছুটা দূর থেকে ফ্রেম করুন।
আর হ্যাঁ, লেন্স পরিষ্কার করতে ভুলবেন না! ফোন টেবিলে রাখলেই তাতে ধুলা বা তেল লেগে যায়, যা ছবিকে ঝাপসা করে দেয়। মাইক্রোফাইবার কাপড় না থাকলে নরম কটন কাপড় ব্যবহার করুন; টিস্যু ব্যবহার করবেন না, এটি লেন্সে আঁচড় ফেলতে পারে।
সঠিক সেটিংস ঠিক করুন
স্মার্টফোনের বড় ও উজ্জ্বল ডিসপ্লে ছবি তোলার সময় বাড়তি সুবিধা দেয়। শুরুতেই স্ক্রিনের ব্রাইটনেস বাড়িয়ে নিন, যাতে ফ্রেমিং সহজ হয়।
ছবি তুলতে কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিন—ভার্টিক্যাল (পোর্ট্রেট) না হরিজন্টাল (ল্যান্ডস্কেপ) শট নেবেন। আর ক্যামেরা লেন্সে আঙুল লাগা থেকে সাবধান থাকুন।
স্মার্টফোনের অটোফোকাস সাধারণত খুব কার্যকর, তবে একাধিক ব্যক্তি থাকলে আপনি নিজে ট্যাপ করে ঠিক করুন কাকে ফোকাস করবেন।
এক্সপোজার (আলো-অন্ধকার নিয়ন্ত্রণ) ফোন সাধারণত নিজে থেকে সামলে নেয়, কিন্তু আপনি চাইলে নিজেও ঠিক করতে পারেন। আইফোনে ট্যাপ করলে সূর্যের আইকন দেখা যায় — সেটি স্লাইড করে উজ্জ্বলতা বাড়াতে বা কমাতে পারেন। পিক্সেল ফোনে গিয়ার আইকন থেকে ব্রাইটনেস স্লাইডার ব্যবহার করুন।
একই দৃশ্যের একাধিক ছবি তুলতে চাইলে ফোকাস ও এক্সপোজার লক করুন — স্ক্রিনে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখলেই এটি সক্রিয় হয়।
ফ্ল্যাশের ব্যবহার সীমিত রাখুন। খুব অল্প আলো না থাকলে ফ্ল্যাশ ব্যবহার করবেন না, কারণ এটি ছবিকে অস্বাভাবিক উজ্জ্বল করে তোলে।
ফোন লক থাকা অবস্থায়ও দ্রুত ছবি তুলতে শিখে নিন: আইফোন-এ লকস্ক্রিন থেকে বাটন চাপুন বা বামে সোয়াইপ করুন। পিক্সেল ও অ্যান্ড্রয়েডে পাওয়ার বা ভলিউম বাটন ডাবল প্রেস করলেই ক্যামেরা খুলে যাবে।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68fa01531ad04" ) );
কম্পোজিশন: ছবির সৌন্দর্যের মূল
দামী ক্যামেরা নয়, ভালো কম্পোজিশনই ভালো ছবির মূল রহস্য। পেশাদাররা বলেন, রুল অব থার্ডস’ বা তৃতীয়াংশ নীতি অনুসরণ করুন।স্ক্রিনে গ্রিড অন করে রাখলে ফ্রেমের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোকে সেই লাইনগুলোর ছেদবিন্দুতে স্থাপন করতে পারবেন, যা চোখে আরামদায়ক দেখায়।
সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি তুলতেও পারেন — যেমন নদীর ঘাট বা সেতুর মাঝ বরাবর ফ্রেমিং। তবে সামান্য অসমতা আনলে ছবিতে প্রাণ আসে।
আরও কিছু টিপস:
ফটোগ্রাফি আরও উন্নত করতে সহায়ক কিছু অ্যাপ
যদি আপনি আরও পেশাদারভাবে শাটার স্পিড, আইএসও বা র ফাইল নিয়ে কাজ করতে চান, নিচের অ্যাপগুলো কাজে দেবে—
VSCO (আইএসও ও অ্যানড্রয়েড)সহজ স্লাইডার দিয়ে এক্সপোজার, শাটার স্পিড, হোয়াইট ব্যালান্স নিয়ন্ত্রণ করা যায়। র সাপোর্ট ও ফিল্টার আছে, যদিও কিছু ফিচারের জন্য সাবস্ক্রিপশন প্রয়োজন।
Lightroom Mobileএক্সপোজার ও আলো নিয়ন্ত্রণের জন্য চমৎকার। অতিরিক্ত আলোযুক্ত অংশ হাইলাইট করে দেখায় এবং পরে ছবিতে পেশাদারভাবে এডিট করা যায়।
Halide Mark II (শুধু আইওএস)আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ম্যানুয়াল ক্যামেরা অ্যাপ। এতে র ফটো, ডেপথ মোড ও ম্যানুয়াল কন্ট্রোল রয়েছে। তবে এটি পেইড — এককালীন ৬০ ডলার বা বছরে ২০ ডলার।