‘সংবিধানে শুরু থেকেই ক্ষমতা কেন্দ্রীয়করণের প্রবণতা রয়েছে’

‘সংবিধানে শুরু থেকেই ক্ষমতা কেন্দ্রীয়করণের প্রবণতা রয়েছে’

মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তৈরি সংবিধানে শুরু থেকেই ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও একদলীয় ক্ষমতা কেন্দ্রীয়কণের প্রবণতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। গত একবছরে সংবিধান সংস্কার নিয়ে এক ধরনের বিপ্লব হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৩তম বার্ষিকীতে মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আর সি মজুমদার মিলনায়তনে বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

আলোচকরা উল্লেখ করেন, “যেখানে বিচার বিভাগ পরোক্ষভাবে অধিকার সম্প্রসারণ করছে, সেখানে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে যতটা আগ্রহী, জনগণের অধিকার বিস্তৃত করায় ততটা নয়।”

সভায় লেখক, চিন্তক, এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ফিরোজ আহমেদ বলেন, “সংবিধান প্রণয়নের সময় ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার এবং একটা দলকে একচেটিয়া ক্ষমতা দেওয়ার একটা প্রবণতা ছিল।”

তিনি বলেন, "যারা সংসদ সদস্য তাদেরই তো বাক স্বাধীনতা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে দেওয়া হয়নি।”

সদ্য প্রয়াত লেখক-গবেষক বদরুদ্দিন উমরের ১৯৭২ সালের সমালোচনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “উমর সাহেব এই অনুচ্ছেদকে ‘কনস্টিটিউশন ফর পার্পেচুয়াল ইমারজেন্সি’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। তিনি সতর্ক করেছিলেন যে- ৭০ অনুচ্ছেদ সংসদ সদস্যদের চিন্তা ও বিবেকের অধিকারকে নাই করে দিচ্ছে... এটা বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে একটা স্থায়ী জরুরি অবস্থার মধ্যে ঠেলে দেবে।”

ফিরোজ আহমেদ আরও বলেন, “এই পারপেচুয়াল ইমারজেন্সিতে যারা ক্ষমতায় থাকেন, যেমন আমলাতন্ত্র বা সেনাবাহিনী, তারা ক্ষমতাচ্যুত হলেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কারাগারই থাকবেন।”

সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, “গত একবছরে সংবিধান নিয়ে আলোচনাকে এক ধরনের আলোচনার বিপ্লব বলা যায়। প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনের যে বিধান আছে, সাংবিধানিক সংস্কার কমিশনের রিপোর্টে সেটাকে বাতিলের সুস্পষ্ট সুপারিশ ছিল।”

কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনায় এই বিস্তারিত সুপারিশ বাদ দিয়ে শুধু "অধিকারের পরিধিকে বিস্তৃত করতে হবে" এমন দাবি করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শরীফ ভূঁইয়া বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় যেতে, ক্ষমতায় থাকতে, ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে যতটা আগ্রহী; জনগণের অধিকার বিস্তৃত করার ব্যাপারে ততটা আগ্রহ দেখায় না।”

তিনি বলেন, “পঞ্চদশ সংশোধনীতে এমন বিধান ছিল যে আপনাকে সংবিধানের সবকিছু বিশ্বাস করতে হবে।”

রাজনৈতিক পথে অগ্রগতি না দেখলেও শরীফ ভূঁইয়া আদালতের মাধ্যমে সংস্কারের ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানান।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, "আমাদের সংবিধানে কিন্তু স্বাস্থ্য অধিকার, মৌলিক অধিকারের মর্যাদা ডিরেক্টলি পায়নি। তবে বিচার বিভাগ ‘রাইট টু লাইফ’কে বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করে এটি প্রতিষ্ঠা করেছে। এভাবেই স্বাস্থ্য অধিকার থ্রু দ্য ব্যাকডোর বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।”

লেখক ড. কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, “১৯৭৪ সালের স্পেশাল পাওয়ার্স অ্যাক্ট রাষ্ট্র কাঠামোকে অনেক ক্ষমতা দিয়েচে। আইনে সমস্যা সাধারণত কম থাকে। সমস্যা হচ্ছে প্রয়োগে।”

Comments

0 total

Be the first to comment.

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে BanglaTribune | অন্যান্য

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে

জুলাই আন্দোলনের মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সাড়ে পাঁ...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin