শ্রীলঙ্কা জানে, প্রত্যাশা থেকে অনেকটা নিচেই থেমেছে তাদের ব্যাটিং। এশিয়া কাপে সুপার ফোরের ম্যাচে বাঁচা-মরার ম্যাচে বাজে ব্যাটিংয়ের মাশুল দিয়েছে তারা। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থাকলেও সুপার ফোরে এসে দেখলো মুদ্রার উল্টো দৃশ্য। রোমাঞ্চকর ম্যাচে তাদের ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে পাকিস্তান। পয়েন্ট টেবিলে যুক্ত করেছে দুটি পয়েন্টও।
আবু ধাবিতে লক্ষ্যটা বেশি ছিল না। ১৩৪ রানের টার্গেট হলেও পাকিস্তানকে চাপে রেখে লড়াই জমিয়ে তুলেছিল লঙ্কান দল। সেই চাপ উতরে শেষ পর্যন্ত ১২ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের দুই ব্যাটার হুসেইন তালাত (৩২) ও মোহাম্মদ নওয়াজ (৩৮)। তাদের ৫৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিই ম্যাচের ভাগ্য গড়েছে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে আহামরি ব্যাটিং প্রদর্শনী ছিল না শ্রীলঙ্কার। আবুধাবিতে মাত্র ৮ উইকেটে ১৩৩ রানে তারা গুটিয়ে গেছে।
লড়াই করার মতো এই স্কোরও সম্ভব হয়েছে কামিন্দু মেন্ডিসের একক লড়াইয়ে। ৪৪ বলে তার ৫০ রানের ইনিংসটিই শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংকে ভরাডুবি থেকে কিছুটা রক্ষা করেছে। প্রথমে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার সঙ্গে ২৮ বলে ২২ এবং পরে চামিকা করুণারত্নের সঙ্গে ৩৯ বলে ৪৩ রানের জুটি গড়ে দলকে টেনে তুলেছিলেন কামিন্দু। অষ্টম ওভারের মধ্যেই মাত্র ৫৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে দল, তখন এই জুটিগুলোই কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়।
শেষ পর্যন্ত শাহীন শাহ আফ্রিদির এক দারুণ ইয়র্কারে এলবিডাব্লিউ হয়ে ফেরেন কামিন্দু। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত অবশ্য রিভিউতে বদলাতে হয়েছিল। তিনিই ছিলেন আফ্রিদির তৃতীয় শিকার। ইনিংসে ৪ ওভারে ২৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানি পেসার গুঁড়িয়ে দেন শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডার। পাওয়ার প্লেতে তিনি তুলে নেন দুই ওপেনারকেও।
পুরো ইনিংসেই দাপট দেখিয়েছে পাকিস্তান। ভালো ব্যাটিং ট্র্যাকে সুযোগ পেলেও বেপরোয়া খেলার মাশুল দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। প্রথম ছয় ওভারে ৫৩ রান তুললেও টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটারই আউট হন এই সময়ে।
মধ্য ওভারে চাপ সামাল দেওয়ার কোনও সুযোগই দেয়নি পাকিস্তানি বোলাররা। হুসেইন তালাত প্রথম ওভারেই টানা দুই বলে ফিরিয়ে দেন চারিথ আসালাঙ্কা ও দাসুন শানাকাকে। এরপর রান পাওয়া আরও কঠিন করে তোলেন আবরার আহমেদ। টানা চার ওভারে মাত্র ৮ রান দেন, তুলে নেন হাসারাঙ্গার উইকেটও।
৬ থেকে ১৬ ওভারের মধ্যে আসে মাত্র ৪৪ রান। শেষ পাঁচ ওভারে যোগ হয় আরও ৩৬। অথচ ম্যাচ শুরুর আগে লক্ষ্য ছিল অন্তত ১৮০।