শ্রমিক দুর্ঘটনার জায়গা যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া দরকার তা হয় না বলে মন্তব্য করেছেন গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার। তিনি বলেন, আমাদের কাছে যেটা মনে হয়, এখানে বেশিরভাগ যারা আক্রান্ত হচ্ছে তারা হলো শ্রমিক। ফলে এই জায়গাটাকে যেইভাবে গুরুত্ব দেওয়া দরকার, সেটা হয় না।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) ডেইলি স্টার সেন্টারে দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিল্প খাতে অগ্নি ও রাসায়নিক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন ও টেকসই কর্মপরিবেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব বলেন।
তাসলিমা আখতার বলেন, আমরা আসলে কীসের পাশে বসে আছি বা কোনও জায়গায় যাচ্ছি সেটাও জানি না। কারণ আমি যে এলাকায় থাকি, মগবাজার ইস্কাটনে সেখানে আমি নিজেই জানি আমার আশপাশে কতগুলো বাসার মধ্যে আসলে কেমিক্যাল গোডাউন আছে। আসলে যেকোনও সময় যেকোনও কিছু ঘটতে পারে। যেমন তাজরিনের ক্ষেত্রে যেটা ঘটেছিল আমরা জানি, তাজরিনে সিঁড়ির নিচে সুতা এবং অন্যান্য কিছু ছিল এবং কেমিক্যালসহ সব বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে সেটা ভয়াবহ রূপ নেয় এবং সেই কারখানাটাও যেখানে সেটা মূল রাস্তা থেকে অনেক দূরে সেখানে যেয়ে যে সেটার কোনোরকম অগ্নিনির্বাপণ করা, সেটার যে রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি সবকিছুই ভয়াবহ ছিল। সেই জিনিসগুলো আমরা বারবার ফিরে আসতে দেখি এ কারণেই যে, সেটার সমাধানের জন্য যে উদ্যোগটা রাষ্ট্রীয়ভাবে নেওয়া দরকার সেটার একটা ঘাটতি আছে।
তিনি বলেন, এটা রাষ্ট্রেরই তদারকি করার দরকার, মালিককে আমরা দুষ্টু মালিক, খারাপ মালিক, লোভী মালিক এগুলো বলতে পারি কিন্তু দিন শেষে আসলে কতটা কী করবে বা পরিবেশটা কী হবে… রাষ্ট্রের আসলে কতটুকু মনোযোগ আছে সেটার ওপর নির্ভর করে। আসলে যারা স্টেকহোল্ডার এবং আমাদের দেশের যারা এই বিষয় নিয়ে কাজ করেন এবং আমরা যারা এই দেশটাকে শ্রমিক-জনগণের জন্য একটা নিরাপদ দেশ হিসেবে রাখতে চাই তাদের জরুরিভাবে বারবার এই জিনিসটাকে সামনে আনা দরকার। কারণ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যদি ঠিক না থাকে বা ভবন যদি ঠিকমত না থাকে সেটার প্রভাব শুধু যারা ওই জায়গায় কাজ করছে তারা না, এ টক্সিক যে গ্রহণ করে এটাতে কী পরিমাণ ভয়াবহ ক্ষতি হয় সেই জায়গাগুলো আমার মনে হয় অনেক বেশি জানা নয়। এবার শ্রম আইনে যেমন একটা সেফটি কমিটির গঠনের আইনটা যুক্ত করা হয়েছে সেটার আরও বিস্তারিত হয়তো বিধিতে থাকবে। দুর্ঘটনার ঝুঁকির তালিকাগুলো মালিক এবং প্রতিনিধিদের জানানো সেটার একটা ধারা এখানে যুক্ত হয়েছে। তফসিলের মধ্যেও বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু আমার মনে হয়, এগুলো কীভাবে কার্যকর হবে এবং কার্যকর না হলে কী কী শাস্তি হবে সেই বিষয়গুলো আরও জোরের সঙ্গে আমাদের সামনে আনা দরকার।
বৈঠকে আলোচক হিসেবে উপস্থিত আছেন– বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহমেদ খান, বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক উদিসা ইসলাম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক মো. মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া, কর্মজীবী নারীর প্রকল্প সমন্বয়ক রিনা আমেনা, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আবুল বাশার মিয়া, জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল আহসান জুয়েল, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আখতার মাহমুদ, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির (বিসিডাব্লিউএস) প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আখতার, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী, বিজিএমইএর সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি মো. শফিকুল ইসলাম, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের উইমেন রাইটস অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি লিড মোরিয়াম নেসা এবং বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসির আরাফাত খান।
বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে গোলটেবিল আলোচনাটি সরাসরি প্রচারিত হচ্ছে।