জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ‘শুধু মৌখিক অঙ্গীকার নয়, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ নিয়ে আরও সংকট তৈরি হবে।’
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এনসিপির যুব উইং জাতীয় যুবশক্তির আয়োজনে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, ‘২৪ এর আন্দোলনের আগে সুশীল সমাজের সবাই রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলেছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর অনেকে সংস্কার চান না। সরাসরি ক্ষমতায় যেতে চান। আমরা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও ভারসাম্য রাখতে পারে এমন সংবিধান চাই। যা নতুন রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সামনে আসতে পারে।’
‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কেমন সংবিধান চাই?’ শীর্ষক এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম। এতে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপি যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন, সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা, সদস্য সচিব ডা. জাহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল প্রমুখ।
আখতার বলেন, ‘বাহাত্তরের সংবিধান এমনভাবে সাজানো হয়েছিল, যাতে শেখ মুজিব একচেটিয়াভাবে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেন। তিনি চিরস্থায়ী ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চেয়েছিলেন। যে সংকট এখনও আছে।’
তিনি বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনের ৮৪টি প্রস্তাবের বেশিরভাগই সংবিধান সম্পর্কিত। সেখানে অনেক দলই একমত পোষণ করেছেন। আমরা মনে করি উচ্চকক্ষে পিআর হলে সবার প্রতিনিধিত্ব থাকবে। কিন্তু অনেকে তা মানতে পারছেন না। তাদের মতে এতে সরকার দুর্বল হবে। সে যুক্তি খোঁড়া ও সত্যের অপলাপ।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘২০১৮ ও ২৪-এর নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের কফিনে পেরেক মেরেছিলেন। তাই আগামীতে জনগণের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন বলেন, ‘এনসিপি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটে যাবে না। আমরা নতুন সংবিধানের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন চাই।’
তিনি বলেন, ‘সংসদে উচ্চকক্ষের পিআরের পক্ষে আমরা মত দিয়েছি। নিন্মকক্ষে নয়।’
এনসিপির সংস্কার সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘বাহাত্তর সংবিধান মরহুম। এটি অনেকগুলো কারণে নেই। কারণ শেখ হাসিনা তার বাবার ছবি সংবিধানের চতুর্থ অনুচ্ছেদ বাধ্যতামূলক করেছেন। যেহেতু এখন আওয়ামী লীগ নেই, তাই সে আইনেরও ভিত্ত নেই।’
তুষার বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আদেশ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। আমরা মনে করি এতে দেশকে আবারও বিপদে ফেলার চেষ্টা চলেছে। আবার হাইকোর্টের বিকেন্দ্রীকরণ করার কথা বলা হচ্ছে। অথচ এরশাদের আমলে এটি বাতিল করা হয়েছে। বিএনপি আবারও তা ফিরিয়ে আনতে চায়। ঐকমত্য কমিশন সালাহউদ্দিন কমিশনে পরিণত হয়েছে। সবাই কথা বলার পর তিনি যে যুক্তি দেন তাই হয়।’
তিনি বলেন, ‘বাহাত্তরের সংবিধান পরিবর্তন না হলে আবারও গণঅভ্যুত্থান হবে। কারণ বাংলাদেশের সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে সীমালঙ্ঘনকারী বানিয়েছে। আমরা তাকে সীমায় আনতে চাই। এ জন্য জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির বিকল্প নেই।’
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নতুন সংবিধান চাই। কারণ বর্তমান সংবিধান প্রথম পৃষ্ঠায় মুক্তিযুদ্ধ শব্দটি লেখা নেই। এত বছরও তা সংযোজন হয়নি। ২০২৪ সালে দাঁড়িয়ে যে সংবিধানে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি, আমরা সে সংবিধান চাই না।’