এশিয়া কাপের শুক্রবার ভারত-শ্রীলঙ্কার ম্যাচটা ছিল নিয়ম রক্ষার। আর সেই ম্যাচেই দেখা মিলেছে ফাইনালের মতো উত্তেজনার! ম্যাচটা নিষ্পত্তি হয়েছে সুপার ওভারে। সেখানে শেষ হাসি হেসেছে ভারত। অবশ্য সুপার ওভারে দাসুন শানাকার রান আউট নিয়েও দেখা দেয় নাটকীয়তার। চতুর্থ বলে সাঞ্জু স্যামসনের থ্রোতে রান আউট হওয়ার পরও কেন তাকে ‘নট আউট’ দেওয়া হলো, এটা নিয়ে চলছে আলোচনা।
ঘটনাটা ঘটেছিল সুপার ওভারের চতুর্থ বলে। আরশদীপ সিংয়ের করা ইয়র্কার শানাকা ব্যাটে ছোঁয়াতে না পারলে কিপার সঞ্জু স্যামসনের হাতে বল জমা পড়ে। তখন দেখা যায় শানাকা ক্রিজের বাইরে, স্যামসন সঙ্গে সঙ্গে থ্রো করে স্টাম্প ভাঙেন। কিন্তু এর মধ্যেই আরশদীপ আবেদন করে বসেন কট-বিহাইন্ডের। ফিল্ড আম্পায়ার ভেবেচিন্তে শানাকাকে আউট দেন ‘ক্যাচ আউট’। পরে শানাকা রিভিউ নেন।
টিভি রিপ্লেতে স্পষ্ট হয়, ব্যাটে বলের কোনও স্পর্শই লাগেনি। তাই ‘কট-বিহাইন্ড’ আউট টিকলো না। আর এখানেই আসে নিয়মের জটিলতা।
এমসিসির আইনে বলা আছে— যে ঘটনার কারণে ব্যাটারকে আউট ঘোষণা করা হয়, সেই মুহূর্ত থেকেই বল ডেড বলে গণ্য হবে।
অর্থাৎ এখানে প্রথম যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল—কট-বিহাইন্ড—সেই মুহূর্ত থেকেই বল ডেড হয়ে যায়। তখন স্যামসনের করা রান আউট কার্যকর ধরা হয়নি। ফলে কট-বিহাইন্ড না হওয়ায় শানাকাকে নট আউট ঘোষণা করা হয়, যদিও ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল তিনি রান আউট হয়েছিলেন।
বিভ্রান্তির মূল কারণ ছিল আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময়। সঞ্জু স্যামসনের থ্রোয়ে শানাকা রান আউট হওয়ার পরই আম্পায়ার তাকে কট-বিহাইন্ড আউট ঘোষণা করেন।
শ্রীলঙ্কার কোচ সনাথ জয়াসুরিয়া পরে বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী প্রথম যে সিদ্ধান্ত হয়, সেটিই আসল ধরা হয়। তাই শানাকা রিভিউ নিলে ‘নট আউট’ আসে। তবে নিয়মে কিছু অষ্পষ্ট জায়গা আছে, যেগুলো পরিষ্কার হওয়া দরকার।’
তবে শানাকার ভাগ্য বেশিক্ষণ সঙ্গ দেয়নি। পরের বলেই কাট করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন ডিপ থার্ডে। দুই উইকেট হারিয়ে সুপার ওভারে মাত্র ২ রান তুলতে পারে লঙ্কানরা। জবাবে প্রথম বলেই কাভারের ফাঁক গলে চার মেরে ভারতকে জয় এনে দেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।