প্রায় ৩৬ ঘণ্টার স্থবিরতা কাটিয়ে উঠছে হংকং। সুপার টাইফুন রাগাসার আঘাতে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে প্রায় অচল হয়ে পড়া অঞ্চলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পরিবহন পরিষেবা, কয়েকটি স্কুল, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।
হংকং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে ধীরে ধীরে ফ্লাইট চালু হয়েছে এবং তিনটি রানওয়েই একসঙ্গে কার্যকর রয়েছে। তারা ধারণা করছে, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দিনে এক হাজারের বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
রাগাসা প্রথমে উত্তর ফিলিপাইন ও তাইওয়ান অতিক্রম করে। সে সময় ওই অঞ্চলের অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এরপর সেটি বুধবার দক্ষিণ চীনের ইয়াংজিয়াং শহরে আঘাত হানে।
ওই দিন হংকংয়ে সর্বোচ্চ ১০ নম্বর টাইফুন সতর্কতা জারি করা হয়। রাগাসার তাণ্ডবে ওই এলাকায় এখন পর্যন্ত শ’ খানেক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার পূর্ব ও দক্ষিণ উপকূলে জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার কারণে বহু সড়ক ও আবাসিক এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। দ্বীপের দক্ষিণের ফুলারটন হোটেলের কাচের দরজা ভেঙে লবিতে সাগরের পানি ঢুকে পড়ে। তবে কোনও হতাহতের খবর মেলেনি এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাভাবিক সেবা চালু রয়েছে।
পর্যবেক্ষক সংস্থা বৃহস্পতিবারও ৩ নম্বর সতর্কতা বহাল রেখেছে। ফলে কিন্ডারগার্টেনসহ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সড়ক মেরামত, হাজারের বেশি ভেঙে পড়া গাছ অপসারণ এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৮৫টির বেশি ঘটনায় জরুরি ভিত্তিতে সাড়া দেওয়ার কাজ চলছে।
রাগাসা আঘাত হানার আগেই সোমবার থেকে নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারীদের জন্য বালুর বস্তা বিতরণ করা হয়। অনেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত করে রাখেন। এতে বাজারে সবজি ও খাদ্যপণ্যের সাময়িক ঘাটতি তৈরি এবং মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স