সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস ঢালাও দরপতন হওয়ার পর দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এতে বেড়েছে প্রধান মূল্যসূচক। তবে অন্য দুই সূচক কমেছে। অবশ্য বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। এরপরও বাজারটিতেও মূল্যসূচক বেড়েছে। তবে কমছে লেনদেনের পরিমাণ।
এর আগে গত সপ্তাহজুড়ে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরপতন হয়। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৩৯টির স্থান হয় দাম বাড়ার তালিকায়। বিপরীতে দাম কমে ২১৯টির। আর ৩৭টির দাম অপরিবর্তিত থাকে। এমন দরপতনের পর চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতন হয়।
এ পরিস্থিতিতে সোমবার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। তবে বড় মূলধনের কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমে যায়।
এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২১২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৫টির। আর ৮০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১১৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬১টির দাম কমেছে এবং ৪৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৫১টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ১৭টির দাম কমেছে এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে পঁচা ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৭টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত ৩৬টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩৮৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৮৪ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক ৯৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৬৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৯৯ কোটি ৩৩ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৬৪ কোটি ১৮ টাকা। এ হিসেবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৩৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৫ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার। ২৩ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সোনালী পেপার।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, কে অ্যান্ড কিউ, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং জেনেক্স ইনফোসিস।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮০টির এবং ৩৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
এমএএস/এমআইএইচএস/জিকেএস