বাংলাদেশের বিপক্ষে দারুণ ব্যাটিংয়ের পরও ৬ উইকেটে ১৬৮ রানে থেমেছে ভারত। তার পর থেকে দলটির ব্যাটিং অর্ডারে ঘন ঘন রদ বদল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৭২ রান নিয়ে থাকা দলটির ১১ ওভার শেষে স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১১১। কিন্তু শেষ ৯ ওভারে তার পর ৪ উইকেট হারিয়ে ৫৬ রান যোগ করতে পেরেছে। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর টাইম আউট প্রোগ্রামে আকাশ চোপড়া ভারতের ব্যাটিং অর্ডারকে ব্যাখ্যাতীত বলে মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে সাঞ্জু স্যামসনকে ব্যাট করতে না পাঠানোয় বরুন অ্যারন নিজেও হতভম্ব! সপ্তম ওভারে শুবমান গিলের আউটের পর প্রমোশন পেয়ে ৩ নম্বরে নামেন শিবম দুবে। তার পর তো ৩ বলে ২ রানে আউট হয়েছেন।
আকাশ চোপড়া বলেছেন, ‘যখন শুবমান ও অভিষেক ব্যাট করছিল, মনে হচ্ছিল দারুণ ব্যাটিং উইকেট। শেষ পর্যন্ত খেলা সম্ভব, যেখানে খুশি মারা সম্ভব। কিন্তু একটি উইকেট পতনের পর ব্যাটিং অর্ডারের অবস্থা আর ব্যাখ্যা করার মতো থাকলো না। ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হলো, তা কমপক্ষে অবাক করার মতো। বাংলাদেশ বোলিংটা খারাপ করেনি, তবে ভারত নিজেরাই ব্যাটিং অর্ডারের অদ্ভুত সব কৌশলে সমস্যা ডেকে এনেছে।’
বরুনও সুর মেলান এভাবে, ‘ওরা ভেবেছিল দুবে এসে স্পিনারদের আক্রমণ করবে। কিন্তু সঞ্জু স্যামসনকেও ব্যবহার করা যেত। ও একটু ওপরে ব্যাটিং করতে পছন্দ করে, আজকের দিনে সেটা ভালো অপশন হতো।’
ম্যাচ শেষে সূর্যকুমার ব্যাখ্যা দেন এই কৌশলের,‘তাদের বোলিং আক্রমণ দেখলে বোঝা যায়—একজন বাঁহাতি স্পিনার (নাসুম আহমেদ), একজন লেগস্পিনার (রিশাদ)। দুবে ওই পরিস্থিতির জন্য আদর্শ ম্যাচআপ ছিল। সাত থেকে ১৫ ওভারের মধ্যে ওকে নামানোই পরিকল্পনা ছিল। চেষ্টা করেছিলাম, কাজে লাগেনি। তবে সামনে আবারও আমরা এটা চেষ্টা করতে পারি।’
আসলে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ব্যাটিং অর্ডারে পরীক্ষা বজায় রেখেছে ভারত। ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক জানিয়েছিলেন,‘প্রত্যেকে যে কোনও পজিশনে নামতে প্রস্তুত।’
এখানে বলে রাখা ভালো মূল কারণ—লেফট-রাইট কম্বিনেশন ধরে রাখা। এশিয়া কাপের আগেই যখন স্যামসন ওপেন করেছিলেন, তখন তিন নম্বরে নেমেছেন সূর্যকুমার যাদব কিংবা তিলক বর্মা। কিন্তু গিল ওপেনিংয়ে ফেরার পর থেকে গত পাঁচ ম্যাচে মাত্র একবারই (ওমানের বিপক্ষে) স্যামসন তিন নম্বরে নেমেছেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে গিল আউট হওয়ার পরও বাঁহাতি ব্যাটার দুবে-কে পাঠানো হলো। এমনকি ১৫তম ওভারে পঞ্চম উইকেট পতনের পরও স্যামসনকে আটকে রেখে আগে নামানো হলো অক্ষর প্যাটেলকে। যিনি ১৫ বলে অপরাজিত ১০ রানের ইনিংস খেলেছেন।
বরুনের বিস্ময় তাই স্বাভাবিক,‘স্যামসনের আগে অক্ষর? বুঝতে পারছি না। লোকটা (স্যামসন) গত বছর তিনটা টি–টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করেছে। তাকে একটু হলেও সুযোগ দিতে হবে।’