অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৭ রানের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্বাগতিকদের হয়ে আশা জাগিয়েছিলেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। কিন্তু তার বীরত্ব ছাপিয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় সফরকারী দল।
মাত্র দুই দিন আগে নিউজিল্যান্ডে পৌঁছানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ এডেন পার্কের পিচে শুরুতে ভুগলেও ২০ ওভারে ৬ উইকেটে সংগ্রহ করে ১৬৪ রান।
পিচ বোলিং বান্ধব হওয়ায় ব্যাটারদের ভুগতে হয়েছে বেশ। তাছাড়া ক্যারিবীয়দের নিয়ন্ত্রণও ছিল নিখুঁত। এই অবস্থায় লড়াই টিকে ছিল মূলত অধিনায়ক স্যান্টনারের ব্যাটে। মাত্র ২৮ বলে অপরাজিত ৫৫ রান করে ম্যাচে প্রাণ ধরে ফিরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অপরপ্রান্তে যোগ্য সঙ্গ পাননি। শেষ পর্যন্ত দল থামে ৯ উইকেটে ১৫৭ রানে।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। পাওয়ারপ্লেতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপদে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আউট হন ব্র্যান্ডন কিং (৩) ও আলিক অ্যাথানেজ (১৬)। ছয় ওভার শেষে স্কোর ২ উইকেটে ৩২।
তার পর সতর্ক শুরুর পর ধীরে ধীরে হাত খুলতে থাকেন অধিনায়ক শাই হোপ। তার ব্যাটেই ইনিংস অগ্রসর হতে থাকে। ইনিংসের মাঝপথে ১০ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৬৬। এরপর তিন ওভারে আসে ৩৪ রান। ৩৮ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূরণ করলেও পরের বলেই জ্যাক ফোকসের বলে বোল্ড হয়ে যান হোপ (৫৩)।
শেষ দিকে ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন রোস্টন চেজ ও রোভম্যান পাওয়েল। ৩৩ বলে ৪৯ রান যোগ করেন তারা। রোভম্যান পাওয়েল ছিলেন বেশি আগ্রাসী। দুই ছক্কা ও ২ চারে ২৩ বলে করেছেন ৩৩। চেজ ২৭ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় ২৮ রান করেন। তাতে ৬ উইকেটে স্কোর দাঁড়ায় ১৬৪। তার পরও স্কোর কিছুটা কম মনে হচ্ছিল। সেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় বোলিংয়ে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার ম্যাথিউ ফোর্ড পাওয়ারপ্লেতে তিন ওভারে দেন মাত্র ৯ রান। নেন একটি উইকেট। ব্ল্যাক ক্যাপসদের পরে বিপদে ফেলেছেন জেইডেন সিলস। ১৩তম ওভারে তিন বলের ব্যবধানে তিনি তুলে নেন ড্যারিল মিচেল (১৩) ও মাইকেল ব্রেসওয়েলের (১) উইকেট। তাতেই ম্যাচটা ঘুরে গেছে। চার ওভারে ৩২ রানে ৩টি উইকেট নেন তিনি।
শেষ দিকে স্যান্টনার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে আশার সঞ্চার করেছিলেন। কিন্তু শেষ ওভারে দরকার ছিল ২০ রান! কিন্তু সেই সমীকরণ মেলাতে পারেননি তিনি। অবশ্য সেটা করতে না পারলেও দশম উইকেটে কিউইদের হয়ে রেকর্ড পার্টনারশিপ গড়েছেন স্যান্টনার ও ডাফি। ৫০ রানে অবিচ্ছিন্ন ছিলেন তারা।
বল হাতে রোস্টন চেজও কম ছিলেন না। ২৬ রানে তিনি নেন ৩ উইকেট। ব্যাট-বলে অবদান রাখায় ম্যাচসেরাও তিনি।